‘কত মানুষ ঘর পায়, মুই না পাং’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ এএম, ১২ এপ্রিল ২০২১

‘হামার ভাঙ্গা ঘরত পরি আছি পলিথিন দিয়া। রাতে ঘুমির পাং না, ঘরোত বৃষ্টির পানি দিয়ে গাও বিছনা ভিজি যায় তবুও কাহো দেখে না। দুই বছর ধরি ঘরটার টিন ফুটা হয়া পানি পরে। সবার হাত পা ধরিও কোনো কিছু পাং নাই। কত মানুষ পাকা ঘর পায় মুই না পাং।’

এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের ১নং কাশীরাম মুন্সীর বাজার এলাকার আব্দুল জলিলের স্ত্রী সোনাবি বেগম (৫০)। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আকুতি জানান সোনাবি বেগম।

জানা গেছে, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের ১নং কাশীরাম মুন্সীর বাজার এলাকার আব্দুল জলিলের পরিবার প্রায় দুই বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ঝালমুড়ি বিক্রেতা অসুস্থ আব্দুল জলিল (৬৫) পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৬ জন। দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। অতি কষ্টে বড় মেয়ের বিয়ে দেন। বড় ছেলে জোনাব আলী বিয়ে করে স্ত্রী নিয়ে অন্য জায়গায় বসবাস করেন। ছোট মেয়ে রুপালী অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। সবার ছোট রাজিব (১২) বাক প্রতিবন্ধী। তবে তার ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা ভিজিডি কার্ড।

গত বছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে আব্দুল জলিলের ঝালমুড়ি বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। এখন অসুস্থ অবস্থায় ঘরে পড়ে আছেন আব্দুল জলিল। দেখার কেউ নেই।

jagonews24

বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় অসুস্থ স্বামী-সন্তানকে নিয়ে থাকতে হচ্ছে সোনাবি বেগমকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘর। টিনে জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। কোনোমতে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে বসবাস করছেন। বৃষ্টি শুরু হলেই সব ভিজে যায়। অভাবের তাড়নায় এক মেয়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করাতে হচ্ছে। এক বছর আগে করোনায় বন্ধ হয় ঝালমুড়ির ব্যবসা। সেই থেকে কষ্টে দিন কাটান তারা।

এ বিষয়ে তুষভান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম জানান, সোনাবি বেগমের ঘরের অবস্থা দেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসানের সাথে কথা হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ওই পরিবারের খোঁজ নেয়া হবে। সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য হলে তারা পর্যায়ক্রমে পাবেন।

রবিউল হাসান/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]