কমছে বিষখালী-সুগন্ধা নদীর লবণাক্ততা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২১

ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানির লবণাক্ততা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলেও আগামী পূর্ণিমার জোয়ারে পানি স্বাভাবিক হবে বলে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হক মিয়া।

আশ্বস্ত করে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। ক্রমান্বয়ে লবণাক্ততা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলেও আগামী পুর্ণিমার জোয়ারের পানিতে পুরোপুরি স্বাভাবিক মিষ্টি স্বাদের পানিতে রূপ নেবে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি।

তিনি আরও বলেন, ঝালকাঠির দুই নদীতে পানির চাপ কম থাকায় গত পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরের লবণ পানি প্রবেশ কর। এরআগেও পানিতে কিছুটা লবণাক্ততা ছিল, কিন্তু তা ছিল ক্ষতিসীমার নিচে। নদীর পানি লবণাক্ত হলেও পার্শ্ববর্তী পুকুর, খাল ও ডোবার পানি স্বাভাবিক রয়েছে।

সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানির লবণাক্ততা কমে স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেচ কাজে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান তিনি। পুকুর, খাল ও ডোবার স্বাভাবিক পানি দ্বারা সেচসহ অন্যান্য কাজ করার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকে হঠাৎ করেই সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষরা পানি লবণাক্ততা অনুভব করতে শুরু করেন। নদী তীরবর্তী মানুষ দৈনন্দিন কাজে এ নদীর পানি ব্যবহার করলেও এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।

jagonews24

বিশেষজ্ঞদের মতে শুষ্ক মৌসুমে উজানের পানি কম প্রবাহিত হওয়া এবং বৃষ্টিপাত না হওয়া, দূষণসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই সুগন্ধা ও বিষখালীর মতো মিঠা নদীর পানিও এখন লবণাক্ত হয়ে উঠেছে। এতে করে জীব বৈচিত্র্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে, ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কাও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম জানান, প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল শহরের ভেতর থেকে বয়ে আসা বাসন্ডা খালের কাঠপট্টি খালের মুখের পাশের জায়গাতে নদীর পানি লবণাক্ত। তাই এটা স্বাভাবিক ধরে নিয়েছিল অনেকে। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে নদীর পানি লবণাক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তারা একটি সার্ভে করেছিলেন, যেখানে দেখতে পান শুষ্ক মৌসুমে সাগরের পানি তেঁতুলিয়া নদী পর্যন্ত চলে আসছে। তখন পরিবেশ অধিদপ্তরসহ দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য বলা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বেশ কিছু মাধ্যমে শুনতে পারছি বরিশালের কীর্তনখোলা, ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানিতে লবণাক্ততা আসছে। এজন্য পরিবেশ অধিদফতরকে কীর্তনখোলা নদীর পানি পরীক্ষা করতে হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ যেটুকু নেয়া প্রয়োজন তা নিতে হবে। তা না হলে আমাদের জলজ সম্পদের ক্ষতি হবে, পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং জীব-বৈচিত্র্যর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

প্রতিমাসেই নদীর পানি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী বায়োকেমিস্ট মো. মুনতাসির রহমান।

তিনি বলেন, পরীক্ষার হিসেব অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মার্চ মাসে কীর্তনখোলা, সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানির অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। এটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়, তাই নিয়মিত মনিটরিং রাখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

আতিকুর রহমান/এসজে/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]