খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীরাম বালাপাড়া হামকুড়া গ্রামের দিনমজুর আনারুল ইসলামের (৬৫) জায়গা জমি নেই। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্যের জমিতে একটি টিনের ঘরে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু ১৬ এপ্রিল ঘরটি ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।
হাতে টাকা না থাকায় ঘরটি মেরামত করতে পারছে না আনারুল। তাই চারদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত পার করছেন। সরকারি সাহায্য না পাওয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের।
বৃদ্ধ আনারুল ইসলাম বলেন, ‘ঝড়ে আমার সব কিছু উড়িয়ে নিয়ে গেছে। টাকা পয়সার অভাবে ঘর মেরামত করতে পারছি না। এখন সবাই খোলা আকাশের নিচে দিন রাত কাটাচ্ছি। আমি অসহায় দিনমজুর সরকারের কাছে একটা পাকা ঘর চাই।’
১৬ এপ্রিল আনারুল ইসলামের মতো ঝড়ের কবলে পড়ে ভেঙে পড়ে উপজেলার প্রায় শতাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি। চারদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে বেশ কয়েকটি অসহায় পরিবার। অনেকে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
ঝড়ে নষ্ট হয়েছে অনেক সবজি ক্ষেত, ভুট্টা ও কাঁচা-পাকা ধান। বিনষ্ট হয় ফলজ ও বনজ গাছ-পালা। হেলে পড়েছে বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। ফলে ওই এলকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে তিনদিন ধরে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ সময় তারা ঝড়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তুষভান্ডার ইউনিয়ন পরিষদ ইউপি সদস্য নুরনবী বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে প্রায় ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলার তুষভান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। ত্রাণসামগ্রী পেলে দ্রুত পরিবারগুলোকে দেয়া হবে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল হাসান জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘর নির্মাণের বরাদ্দ পেলে দ্রুত পরিবারগুলোকে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।
মো. রবিউল হাসান/এসজে/জিকেএস