দীর্ঘ ১০ বছর পর ভিটে ফিরে পেলেন সেই কল্পনা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

নাটোর শহরতলীর ‘হাজরা নাটোর’ এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী কল্পনা পাহান দীর্ঘ ১০ বছর পর তার হারানো বসতভিটা ফিরে পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে তার হাতে বসতভিটা বুঝিয়ে দেন জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

বাড়ি ফিরে পেয়ে কল্পনা পাহান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ কল্পনা পাহানকে পাঁচ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজের পক্ষে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন-আল-ওয়াদুদ তার হাতে চেক হস্তান্তর করেন।

‘হাজরা নাটোর’ এলাকার কল্পনা পাহানের কিডনির সমস্যা হলে তিনি সুদ ব্যবসায়ী খুশি বেগমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এরপর কয়েক ধাপে ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু সুদ বাবদ খুশি বেগম তিন লাখ টাকা দাবি করেন। এরই এক পর্যায়ে একদিন দলবল নিয়ে বাড়িতে এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটা ফাঁকা স্ট্যাম্পে তার স্বামী গোহনু পাহানের স্বাক্ষর নেন তারা।

সপ্তাহ খানেক দুই শতাংশ জমির ওপর নির্মিত কাঁচাবাড়ি থেকে তাদের তাড়িয়ে দেন সুদ ব্যবসায়ী খুশি বেগম। এ বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকিও দেন তিনি। এখন সেখানে পাকা দালান তুলে বসবাস করতে থাকেন খুশি। দলিল থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে জায়গার দখল ছিল না কল্পনার।

শুধু কল্পনা নন একই এলাকার সামছুন্নার, রহিমা বেগমও সুদ ব্যবসায়ী খুশি বেগমের খপ্পরে পড়ে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে তা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহার নজরে আসে। তখন থেকেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। কয়েকদিনের অনুসন্ধানে সুদের ভয়াবহতার সত্যতা পাওয়ায় সুদ ব্যবসায়ী খুশি বেগমকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে পুলিশ খুশি বেগম ও ভুক্তভোগীদের থানায় নিয়ে আসেন। সেখানে ভুক্তভোগী সামসুন্নাহার বাদী হয়ে খুশি বেগমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী কল্পনা পাহানের বসতভিটা দখল করে নেয়া ও কথিত সুদের টাকার জন্য রহিমা বেগমকে নির্যাতনের ঘটনা উঠে আসে।

পরে খুশি বেগমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কল্পনা পাহানের বসতভিটা ফিরে পাওয়ায় এলাকাবাসী পুলিশ সুপার লিটন কুমারসাহাসহ গমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

রেজাউল করিম রেজা/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]