জয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে কৃষকের বিঘায় লাভ আড়াই লাখ
বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন জয়পুরহাটের কৃষকরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় প্রচলিত অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে তাদের। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার উৎপাদিত রসালো লাল স্ট্রবেরি এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর, চান্দা ও কালিবাড়ি গ্রামে ব্যাপকভাবে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লাল টুকটুকে স্ট্রবেরি। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কৃষকদের এই ব্যাপক আগ্রহের কারণে লোকমুখে গ্রামগুলো এখন ‘স্ট্রবেরি ভিলেজ’ নামে পরিচিত।
কৃষকরা জানান, স্বল্প সময়ে উৎপাদন ও লাভ বেশি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে এই ফলের চাষ হয়েছে। এরই মধ্যে জমি থেকে স্ট্রবেরি তোলা শুরু করেছেন চাষিরা। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। এদিকে, লাভজনক এই ফল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। চলতি মৌসুমে জয়পুরহাট জেলায় মোট ১৩ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ক্ষেত থেকেই প্রতি কেজি স্ট্রবেরি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতিদিন সকাল থেকেই এসব গ্রাম থেকে ট্রাকে করে স্ট্রবেরি দেশের নানা প্রান্তে যাচ্ছে।
স্থানীয় কালিবাড়ি গ্রামে এক চাষী হারুন হোসেন নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘গত চার-পাঁচ বছরের হিসাব করলে এ বছর বাজারে স্ট্রবেরির দাম বেশ ভালো। তাই অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমরা বেশ লাভজনক অবস্থায় থাকব বলে আশা করছি।’
চাষের খরচ ও লাভের বিষয়ে স্থানীয় চান্দা গ্রামের কৃষক হাফিজার রহমান হিসাব কষে বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করলে সার, সেচ, শ্রমিকসহ যাবতীয় সর্বোচ্চ খরচ বাদ দিয়েও অনায়াসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।
জয়পুরহাটে আসা এক পাইকারি ক্রেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এখানকার স্ট্রবেরির মান খুব ভালো। আমি পাবনা থেকে এসেছি। এখান থেকে কিনে আমরা পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি।’
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জয়পুরহাটের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, যাতে তারা নির্বিঘ্নে এবং প্রচুর পরিমাণে স্ট্রবেরি উৎপাদন করতে পারেন। পরিপক্ব অবস্থায় এখানকার স্ট্রবেরি বেশ রসালো ও সুস্বাদু হয়। গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।’
মাহফুজ রহমান/কেএসকে