জরাজীর্ণ ঘরে অর্ধাহারে দিন কাটছে বৃদ্ধ আমের-আনোয়ারার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বৃদ্ধ আমের উদ্দিন (৭০)। এই বয়সেও রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাকে। রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংসার। কিন্তু চলমান লকডাউনে রোজগার না থাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে এই বৃদ্ধ দম্পতির। এ অবস্থায় কেউ খবরও নেয়নি তাদের।

জানা গেছে, উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের তেলিপাড়া গ্রামে স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে (৬৫) নিয়ে জরাজীর্ণ এক ঝুপড়িতে থাকেন আমের উদ্দিন। স্ত্রী আনোয়ারা বেগম অন্য বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। এ অবস্থায় তাদের জন্য আজও মেলেনি কোনো সরকারি ভাতার কার্ড। পাননি কোনো সরকারি অনুদান। বাধ্য হয়ে রিকশা চালাতে হয় বৃদ্ধ আমের উদ্দিনকে। কিন্তু লকডাউনে আয় কমে যাওয়ায় কষ্টে দিন পার করছেন এই অসহায় পরিবারটি।

একটি মেয়ে রয়েছে এই বৃদ্ধ দম্পতির। মেয়ের বিয়ে দিলেও তাদের সঙ্গেই থাকেন। জায়গা জমি বলতে বৃদ্ধ আমের উদ্দিনের এক শতক ও একমাত্র মেয়ে জামাইয়ের কেনা দুই শতকসহ মোট তিন শতক জমিতে দুই পরিবারের বসতঘর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাত্র তিন শতক জমির উপর দুটি ঘর। এক ঘরে মেয়ে-জামাই থাকেন। আরেক ঘরে থাকেন বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম। আর স্বামী আমের উদ্দিন থাকেন জরাজীর্ণ এক ঝুপড়িতে। এই লকডাউনে রিকশা নিয়ে বের হলেও তেমন ভাড়া পান না। এই বয়সে আর রিকশা চালাতে পারেন না আমের উদ্দিন। করোনার কারণে আনোয়ারা বেগমকেও আর কেউ কাজে নেন না।

বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এই ভাইরাসোত (ভাইরাসে) কোনো কাম নাই। বুড়াটা বাড়িত বসি আছে। দিন যায় হামার না খেয়া। সরকার থাকি কোনো কিছু পাই না। এই ভাঙা ঘরত পরি থাকি। পানি (বৃষ্টি) আর হুরকাতে ভয়ে ভয়ে রাত কাটাই।’

বৃদ্ধার মেয়ে নজিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী রিকশাচালক। আমি চাল কলে কাজ করি। কোনোরকম টেনেটুনে চলে আমাদের সংসার। মায়ের ঘর ভালো করার মতো আমার সামর্থ নাই।এই লকডাউনে কাজ না থাকায় পুরো পরিবার অনেক কষ্টে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মা আর কতো গরিব হলে সরকারি ঘর পাবে? মাকে যেন সরকার সাহায্য করে, এই দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আক্কেল আলী বলেন, ‘রিকশাচালক বৃদ্ধ আমের উদ্দিন আমার প্রতিবেশি। রিকশা চালিয়ে কোনোমতে চলে তাদের পরিবার। অভাবের কারণে তাদের থাকার ঘরটি নরবরে অবস্থা। পরিবারটিকে একটি সরকারি পাকা ঘর দিলে উপকৃত হবে।’

সিংগীমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু বলেন, ‘করোনাকালীন কোনো সাহায্য আসলে তারা পাবেন। আপাততো গুচ্ছগ্রাম ছাড়া ব্যক্তি মালিকানা জমিতে সরকার আর কোনো ঘর দেয় না।’

রবিউল হাসান/ইএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।