সোনালি ধানে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২১

মাঠে মাঠে দুলছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালি ধান। করোনার সংক্রমণে দেশের মানুষ যখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তখন করোনার ভয়কে জয় করে সোনালী ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর নড়াইলের বোরো চাষিরা।

তবে সেই ধান ঘরে তোলা নিয়ে আশংকা দেখা দিয়েছে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ভয়ে।

কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর করোনার মধ্যেই কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অতিরিক্ত ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা নড়াইলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে। সেখানে আবাদ হয়েছে ৪৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে।

নড়াইল সদর উপজেলার আন্ধারকোঠার বিল, ইছামতি বিল, কাড়ার বিল, আউড়িয়া, লস্কারপুর সলুয়ার বিল, কুমড়ির বিল, তারাপুর বিল, পেড়লির বিল, চাচড়ার বিল, চামরুল বিল, ধাড়িয়ার বিল, লোহাগড়া উপজেলার ইছামতি বিল, ইতনা বিল, কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি বিল, পাটেশ্বরী বিল, কলাবাড়িয়ার বিলসহ বিভিন্ন বিলে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।

এসব বিলে হাইব্রিড জাতের হীরা, তেজ গোল্ড, এসএল ৮এইচ, উফসি জাতের ব্রি ধান- ২৮, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৫০, ব্রি ধান-৫৮, ব্রি ধান-৬৩, ব্রি ধান-৬৭, ব্রি ধান-৭৬, ব্রি ধান-৮৪, ব্রি ধান-৮৮, ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯৬ সহ বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জাতেরও কিছু ধানের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক পরিচর্যায় এ বছর ধানে বাম্পার ফলন আশা করছেন চাষিরা।

Narail-Paddy-2

মাইজপাড়া ইউপির সলুয়া গ্রামের কৃষক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের মাইজপাড়া বিলে এ বছর বোরা ধান খুবই ভালো হয়েছে। সম্প্রতি ঝড়ে কিছুটা সমস্যা হলেও ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি কাটা শুরু হয়ে যাবে। দেশের মানুষ করোনার ভয়ে ঘরবন্দি থাকলেও কৃষকরা করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে বোরো ধানের চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, করোনাকে ভয় পাচ্ছি না। তবে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিকে ভয় পাচ্ছি। এই মুহূর্তে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। এই ধানের ওপরই আমাদের সংসারের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়া চলে।

লোহাগড়া উপজেলার হান্দলা গ্রামের কৃষক এসকেন্দার মোল্যা বলেন, আমরা অর্থকষ্টের মধ্যেই ধানচাষ করি। এ বছর ধান ভালো হয়েছে। গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর আরো বেশি জমিতে ধান চাষ করেছি। আগামী এক মাসের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। শিলাবৃষ্টি ও ঝড় না হলে আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে ধান ঘরে তুলতে পারব।

ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বোরো চাষি জামাল মোল্যা বলেন, সরকারিভাবে এ বছর বীজ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড জাতের বীজ লাগিয়েছি। ধান পাকতে শুরু করেছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই কাটা শুরু করব। আশা করি প্রতি ৩ শতক জমিতে ২ মণের অধিক ধানের ফলন পাব। ধান ঘরে তুলতে পারলে নিশ্চিন্তে একটি বছর পার করতে পারব। খাবারের কোনো চিন্তা করতে হবে না। তাছাড়া এই ধান বিক্রি করে অন্যান্য ফসলের খরচ মেটাতে হবে।

তবে বেতবাড়িয়া গ্রামের প্রকাশ কুমারসহ অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের কোনো সহযোগিতা করেন না। অফিসে সহযোগিতা বা পরামর্শ চাইতে গেলেও ভালো আচরণ করেন না। অফিসে গিয়ে কোর লাভ হয় না। তাই নিজেদের ইচ্ছামতো আবাদ করি। কৃষি কর্মকর্তারা যদি সহযোগিতা করতেন তাহলে আরো ভালো ফসল হত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নড়াইলের উপ-পরিচালক দীপক কুমার দে বলেন, ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা নড়াইল। এই জেলায় উৎপাদিত ধান জেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলায় সরবরাহ করা হয়। এ বছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অতিরিক্ত ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে।

হাফিজুল নিলু/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]