হত্যা মামলার আসামির দেয়া গাড়ি ব্যবহার করছেন এএসপি দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২১

জব্দ ফেনসিডিল বিক্রির ঘটনায় সদ্য প্রত্যাহার হওয়া বগুড়ার শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী ডা. শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামির দেয়া প্রাইভেটকার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের কাছ থেকে প্রাইভেটকার ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন এএসপি আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী। তবে মামলার আসামি রাসেল মাহমুদ সবুজের দাবি, ঘুষ নয়, গাড়িটি ভাড়া দেয়া হয়েছে এএসপি আরিফুল ইসলামের স্ত্রী ডা. শারমিন সুলতানাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার দাড়িদহ বন্দরে হাইস্কুলের সামনে প্রতিপক্ষের মারধরে আহত হন কৃষক লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম নান্টু (৩৫)। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল বাছেদ মন্ডল বাদী হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।

হত্যা মামলার বাদী আব্দুল বাছেদের অভিযোগ, ‘শিবগঞ্জ সার্কেলের এএসপি আরিফুল ইসলাম এবং মামলার দুই নম্বর আসামি বিএনপি নেতা মাহবুবর আলম মানিক বগুড়ার উপশহরে একই ভবনে বসবাস করেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে সখ্য রয়েছে। মামলার তিন নম্বর আসামি রাসেল মাহমুদ সবুজ বিএনপি নেতা মাহবুবর আলমের ভাগনে। মামা ভাগনে যৌথভাবে সার্কেল এএসপিকে সাড়ে আট লাখ টাকায় প্রাইভেটকার কিনে দিয়েছেন। সেই গাড়িটি তার স্ত্রী ব্যবহার করেন। গাড়ি ঘুষ নিয়ে এএসপি আসামিদের গ্রেফতার করতে দেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসামিদের কাছ থেকে গাড়ি উপহার নেয়ার বিষয়টি পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ দিয়েছি।’

একই অভিযোগ করেন শিবগঞ্জের ময়দানহাটা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রুপম। তিনি বলেন, ‘হত্যা মামলার আসামিদের কাছ থেকে সার্কেল এএসপি গাড়ি উপহার নেয়ার বিষয়টি শিবগঞ্জের মানুষ সবাই জানেন। তার স্ত্রী ডা. শারমিন টিএএমএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই গাড়িতেই যাতায়াত করেন। এছাড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, এএসপি আরিফুল ইসলাম নিজেই (ঢাকা-মেট্রো-গ-২৫-১৮৫৪ নাম্বার) গাড়িটি চালিয়ে তার স্ত্রীকে টিএএমএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নামিয়ে দিচ্ছেন।’

তবে শিবগঞ্জের সাবেক সার্কেল এএসপি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাদী পক্ষের এই অভিযোগ অসত্য। এখন চেয়ারে নাই, অনেকেই অনেক কথা বলবেন। বিআরটিএ অফিসে খোঁজ নিলেই জানা যাবে গাড়িটি কার।’

এদিকে, বিআরটিএ অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-মেট্রো-গ-২৫-১৮৫৪ নাম্বারের গাড়িটির মালিকানা রংপুর শহরের কামাল কাচনা এলাকার আবুল কালামের ছেলে আকতারুজ্জামানের নামে। তিনি বলেন, ‘গাড়িটি তিনি রংপুর শহরের আরমান কার হাউসের মাধ্যমে সাড়ে আট লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।’

আরমান কার হাউসের স্বত্বাধিকারী লেলিন জানিয়েছেন, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে গাড়িটি কিনেছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রাসেল মাহমুদ সবুজ নামের এক ব্যক্তি। তবে এখনো গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন হয়নি।

মামলার আসামি রাসেল মাহমুদ সবুজ বলেন, ‘আমি রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা করি। গাড়িটি ঘুষ কিংবা উপহার দেয়া হয়নি। মাসিক ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে এএসপি আরিফুল ইসলামের স্ত্রী ডা. শারমিন সুলতানাকে ভাড়া দেয়া হয়েছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশারফ ভুঞা বলেন, ‘নান্টু হত্যা মামলা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ শুনেছি। এ কারণে মামলাটি থানা পুলিশের কাছ থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ফেনসিডিল বিক্রির ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুর ইসলাম সিদ্দিকীকে প্রত্যাহার করে বরিশাল রেঞ্জ অফিসে বদলি, মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শাহিনুজ্জামান শাহিনকে ওয়্যার হেড কোয়ার্টারে এবং মামলার বাদী এসআই সুজাউদ্দৌলাকে বগুড়া পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।

এছাড়া ওই ঘটনায় আজ উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমানকে সোনাতলা, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিজানকে সারিয়াকান্দি, কনস্টেবল যথাক্রমে মিজানুর রহমানকে দুপচাঁচিয়া, কিবরিয়াকে সারিয়াকান্দি, অরুপকে বগুড়া সিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ি, মিলন রহমানকে আদমদীঘি থানায়, সজিব রহমানকে গাবতলী থানার বাগবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এবং মোজাফফর আলীকে গাবতলী থানায় বদলি করা হয়েছে।

এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।