লঙ্গরখানায় ভাসমানদের ইফতারে জেলা প্রশাসক
নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং লকডাউনে বিপর্যস্ত ভাসমান মানুষদের জন্য লঙ্গরখানায় মাসব্যাপী মানবিক ইফতারের আয়োজন চলছে প্রতিদিন।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় লঙ্গরখানা পরিদর্শন করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।
এ সময় জেলা প্রশাসক ভাসমানদের মাঝে ইফতার পরিবেশন শেষে লঙ্গরখানার আয়োজন, ব্যবস্থাপনা, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনার ভূয়সী প্রশংসা করে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের প্রতি কোণে চালু হলে কোনো ভাসমান ক্ষুধার্থ থাকবে না বলেও জানান তিনি।

চৌমুহনীর রেলস্টেশনে প্রতিদিন ইফতারের সময় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে শতাধিক মানুষের হাতে ইফতার তুলে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা গোলাপ’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। আর এতে সহযোগিতা করছে ‘সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন।’
উল্লেখ্য, করোনার সংক্রমণের শুরুতে কর্মহীন হয়ে পড়া ভাসমান মানুষদের জন্য স্থানীয় সমাজকর্মী শাহেদ মুনীম ফয়সাল লঙ্গরখানা চালুর মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থার বিষয়টি নোয়াখালীর গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। তখনকার বেগমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম ওমর ফারুক বাদশা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম ভাসমান লঙ্গরখানাটি চালিয়ে নিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন নেপথ্যে থেকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে তখন। এভাবে ১০৭ দিন খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল লঙ্গরখানায়।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভাসমান মানুষদের মুখে সামান্য খাবার তুলে দিতে ইফতারের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অর্থ অথবা ইফতার সরবরাহের মাধ্যমে অসহায় এই মানুষগুলোকে ইফতার করাতে পারে। তাহলে পুরো রমজানে কর্মসূচিটি অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কর্মসূচির সমন্বয়ক শাহেদ মুনীম ফয়সল।
এফএ/এএসএম