শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তার পরিচয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে উপবৃত্তির টাকা

জাহিদ খন্দকার জাহিদ খন্দকার
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২১

কখনো শিক্ষা বোর্ডের সচিব কখনো বা শিক্ষা বোর্ডের বড় কর্মকর্তার পরিচয়ে ফোন দিয়ে গাইবান্ধায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই জালিয়াতি করে মোবাইলের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এদিকে, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানাল পুলিশ।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আবু বাশার রহমান বিশাল। বাবা আব্দুল মজিদ একজন কাপড় ব্যবস্যায়ী। লোখাপড়ার পাশাপাশি বাবার দোকানে বসে বিশাল। বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কলেজছাত্র বিশালের বাবার ফোনে কল আসে। কলেজ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ফোনকলে বিশালকে চাওয়া হয়। বাবা ছেলেকে ফোন দেয়ার ১৬ মিনিট পরে জানতে পারেন ফোনের বিকাশ অ্যাকাউন্টের সব টাকা শেষ।

কলেজছাত্র আবু বাশার রহমান বিশাল জাগো নিউজকে বলে, ‘০১৭৪৫০৯৮*** নম্বর থেকে আমার বাবার নম্বরে ফোনটি আসার পরে আমাকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকতার পরিচয় দিয়ে উপবৃত্তির টাকা এসেছে কি-না জানতে চায়। আমি হ্যাঁ, বললে ওনারা আমাকে কিছু ফাইল সংশোধনীর জন্য কয়েকটি নম্বর (পিন) আমাদের মোবাইলে পাঠায় এবং জানতে চায়। আমি মোবাইলের পাঠানো নম্বর বলার পরে ওনারা আমাকে বলে আপনার মোবাইলে ২২ হাজার টাকা রাখলে আপনি এক লাখ টাকা উপবৃত্তি পাবেন।’

বিশাল বলে, ‘আমার বিকাশে উপবৃত্তিসহ মোট ৬ হাজার ৫শ টাকা ছিল। ২২ হাজার টাকা মেলাতে আমি পাশের দোকান থেকে আমার নম্বরে ১৪ হাজার ৯শ টাকা বিকাশ করি। এর পরে ওরা কল কেটে দেয়। একটু পরে বিকাশ ব্যালেন্স চেক করে দেখি ১০০ টাকা আছে। মাত্র ১৬ মিনিট কথা বলার পরে আমার বিকাশ থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয়।’

সাঘাটা বোনারপাড়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মৌসুমি আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে শিক্ষা অধিদফতরের পরিচয়ে আমার কাছে (০১৮২৫৪২৮*** ও ০১৬০৮১১০***) এই নম্বর দুটি থেকে ফোন আসে। আমার উপবৃত্তির টাকা আরও বেশি পাওয়া জন্য বিকাশ অ্যাকাউন্টে ২২ হাজার টাকা রাখতে বলে। আমি ২২ হাজার টাকা রাখতে আমার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করলে পরে সেই নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানতে পারলাম এটি প্রতারক চক্রের কাজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ওই চক্র এভাবেই শিক্ষার্থীদের বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নেবে।’

বোনারপাড়া সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জিয়াইল হক জিসান বলেন, “কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধুর কাছে ফোন দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের পরিচয়ে ২২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’

সাঘাটা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র কামরুল ইসলাম বলে, ‘কখনো শিক্ষা বোর্ডের সচিব কখনো বা শিক্ষা বোর্ডের বড় কর্মকর্তার পরিচয়ে গত এক সপ্তাহে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীর কাছে ফোন আসে। এই ফোনে সাড়া দিয়ে অনেকেই প্রতারিত হয়েছে। এই নম্বরগুলো ট্র্যাকিং করে পুলিশ যদি আইনগত ব্যবস্থা নিতো তাহলে প্রতারণা রোধ হতো।’

সাঘাটা উপজেলার উল্ল্যা বাজারের সাহা টেলিকম অ্যান্ড বিকাশ পয়েন্টের ম্যানেজার সুনীল সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে এই বাজারের প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়েছে। আমাদের দোকান থেকে বিকাশে টাকা নেয়ার পরেই টাকা উধাও হয়। প্রশাসন যদি এদের চিহ্নিত না করে তাহলে এই প্রতারণা বেড়েই চলবে।’

এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব কি-না জানতে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি নম্বরগুলো কালেক্ট করে থানায় অভিযোগের পরামর্শ দিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘অসচেতনতার জন্য এইটা হচ্ছে। ভুক্তভুগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।