এক বছর ধরে শিকলবন্দি সত্তরোর্ধ্ব জহুরুল, স্ত্রীর হাত-পাও বিকল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৪:৪৭ পিএম, ০৪ মে ২০২১

সত্তরোর্ধ্ব জহরুল ইসলাম। গত দুবছর আগে আকস্মিক মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে। এ অবস্থায় কয়েকবার নিখোঁজও হন। তাই এক বছর ধরে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ওই বৃদ্ধকে। অর্থের চিকিৎসাও হচ্ছে না তার।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিংঙ্গীমারী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ জহরুল ইসলাম। অতি কষ্টে দিনমজুরি করে দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে বড় করেছেন। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন। দুই ছেলেও বিয়ে করে বউ নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম দিনমজুর রাজমিস্ত্রির কাজ করে অসুস্থ বাবা-মা ও তার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে অতিকষ্টে সংসার চালান।

jagonews24

চার বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে জহুরুলের স্ত্রী শরীফা বেগমের এক হাত ও এক পা অচল হয়ে পড়ে। অর্থের অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করতে পারেননি। এসব চিন্তায় একসময় জহুরুলের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। এরপর শুরু পরিবারে সীমাহীন দুর্ভোগ। নিরুপায় হয়ে পড়েন বৃদ্ধ অসুস্থ স্বামী-স্ত্রী।

তাদের ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দিনমজুরি করে ঠিকমতো দুইবেলা খাবার জুটে না। অর্থের অভাবে মায়ের চিকিৎসা করাতে পারিনি। এ চিন্তায় বাবা দুবছর ধরে পাগল প্রায়। কয়েকবার নিখোঁজও হন। তাই দিনের বেলা বাবাকে গাছের সঙ্গে শিকলে বেঁধে রাখা হয়।

jagonews24

বৃদ্ধ জহরুল ইসলামের স্ত্রী শরীফা বেগম বলেন, ‘অভাবের সংসারে একটা ছেলেরে উপার্জনে পাঁচজনের খাওয়া। আমি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর স্বামীর মাথার সমস্যা দেখা দেয়। টাকার অভাবে দুজনই চিকিৎসা করতে পারি নাই। অসুস্থ অবস্থায় ঘরে দুজনেই পড়ে আছি।’

প্রতিবেশী আবেদ আলী বলেন, ‘বৃদ্ধ জহরুল ইসলাম মানসিক রোগী। কোথাও গেলে আর বাড়ি ফিরতে পারে না। তাই আমরা তার পায়ে শিকল দিয়ে গাছে বেঁধে রেখেছি।’

jagonews24

এ বিষয়ে সিংঙ্গীমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ওই পরিবারকে সাহায্য করা হবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, ‘শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে ওই পরিবারকে সাহায্য করা হবে।’

রবিউল হাসান/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]