বাছুর ছাড়াই প্রতিদিন আড়াই লিটার দুধ দিচ্ছে বকনা গরু!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:১২ পিএম, ০৭ মে ২০২১ | আপডেট: ০৫:০৭ পিএম, ০৭ মে ২০২১

গাভি দুধ দেয় এটা সবারই জানা। কিন্তু বাছুর ছাড়াই আড়াই বছরের বকনা গরু দুধ দেয় এমন ঘটনা কেউ কি কখনও শুনেছেন? তবে শুনতে অস্বাভাবিক মনে হলেও এমনই ঘটনা ঘটেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালজানা গ্রামে।বাছুর ছাড়াই ওই বকনা গরু প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লিটার দুধ দিচ্ছে।

গরুটির মালিক খামারি জাবেদ খান। নিজ চোখে এমন অস্বাভাবিক ঘটনা দেখতে প্রতিদিন ওই খামারির বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

jagonews24

বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিকেলে সরেজমিন খামারি জাবেদ খানের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তার বাড়িতে আশপাশের গ্রাম থেকে আসা নানা বয়সী মানুষের ভিড়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদকের সামনেই বকনা গরুর ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন জাবেদ খান। দুধের রংঙ থেকে শুরু করে সবকিছুই স্বাভাবিক গাভির মতোই দেখা গেল।

বাছুর ছাড়াই গরুর দুধ দেয়ার ঘটনা দেখতে আসা মাইনুদ্দিন, হাছেন শেখ ও আনজিরা বেগম জানান, তারা লোকমুখে খবর পেয়ে গরুটি দেখতে এসেছেন। তাদের কাছে এ ঘটনা অলৈকিক মনে হয়েছে। এমন ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি বলে জানান। এটা ‘সৃষ্টিকর্তার কুদরত’ বলেও মন্তব্য করেন তারা।

jagonews24

খামারি জাবেদ খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষিকাজ আর গরু লালন-পালনই তার পেশা। তার খামারে ছোট-বড় মোট ছয়টি গরু রয়েছে। আড়াই বছর বয়সী ওই বকনা গরুটি তার পালেরই (খামারেই জন্ম নেয়া)। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করার পরও ওই গাভিটি গর্ভে সন্তান (বাছুর) ধারণ করতে পারেনি।’

এসব কারণে আগামী কোরবানী ঈদের সময় গরুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন জাবেদ খান। গরুটি মোটাতাজা করতে ছোলা, খৈল, ভুসি ও খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু পাঁচদিন আগে হঠাৎ করে তার স্ত্রী বকনা গরুটির ওলান দিয়ে দুধ পড়তে দেখেন। এরপর দেখা যায় প্রতিটি বোটাতেই দুধ জমে আছে। হাত দিয়ে টান দিলে দুধ পড়ে। সংগ্রহ না করলে একাই দুধ পড়ে যায় ওলান থেকে। এরপর থেকে হাত দিয়ে টেনে দিনে দুই থেকে আড়াই লিটার দুধ সংগ্রহ করা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা সেই দুধ খেয়ে থাকেন বলেও জানান খামারি জাবেদ খান। তবে ঘটনা কিছু বুঝতে না পেরে প্রথম দিকে ভয়ে যান।

jagonews24

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, হরমোনজনিত কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগেও অনেক জেলাতে এমন ঘটনার নজির রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গাভিটি দুধ দিচ্ছে না, সেজন্য এভাবে দুধ সংগ্রহ করা আমরা নিরৎসাহিত করে থাকি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অনেক কুসংস্কারও ছড়িয়ে পড়ে।

বি.এম খোরশেদ/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]