৫ টাকায় ঈদ বাজার, হাজারও পরিবারে ঈদের খুশি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০২:৪২ পিএম, ১২ মে ২০২১

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা নিলুফা বেগমের স্বামী-সন্তান নিয়ে ছয় সদস্যের সংসার। দিনমজুর স্বামীর আয়েই সংসার চলে তাদের। তবে মহামারি করোনার সংক্রমণ বাড়ায় লকডাউনে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ নেই নিলুফার স্বামীর। ফলে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা।

অথচ দু’দিন বাদে ঈদ। উৎসবের এ দিনে মাংস দূরে থাকা সেমাই-চিনি কেনার সক্ষমতাও ছিল না নিলুফার। ঠিক সেসময় জুলুমবস্তি নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ‘৫ টাকার ঈদবাজার’-এর খবর পান তিনি। বুধবার (১২ মে) ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ বাজারের আয়োজন করা হয়। সেখানে গিয়ে ৫ টাকায় ঈদবাজার করেছেন নিলুফা বেগম।

বাজার শেষে ফেরার সময় নিলুফার চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। তিনি জানালেন, ৫ টাকায় যা পেয়েছেন, তাতে ছয়জনের সংসারে ভালোভাবে ঈদ করতে পারবেন।

নিলুফা জানান, জুলুমবস্তির বাজার থেকে ৫ টাকা টিকিটে চাল, ডাল, সেমাই, তেল, দুধ, চিনি, বিস্কুট, একটি মাঝারি সাইজের মুরগী ও সবজি।

তিনি বলেন, ‘করোনা এসে আমাদের দুই বেলা খাওয়া জোটে না। ঈদে আর কিসের বাজার করব? সেমাই-চিনি কেনার টাকায় ছিল না। মাংসা কেনার কথা চিন্তাও করিনি। হঠাৎ জুলুমবস্তির ৫ টাকার বাজারের বিষয়টি জেনে আসছিলাম। অনেক জিনিস দিয়েছে। এবার ঈদে ছেলে-মেয়েরা ভালো খাবার খেতে পারবে।’

শুধু নিলুফা নয়, জুলমুবস্তির ‘৫ টাকার ঈদবাজার’ থেকে কেনাকাটা করতে পেরেছেন জেলার প্রায় এক হাজার পরিবার।

eid

জুলুমবস্তির বাজার থেকে কেনাকাটা করা মনসুর রহমান বলেন, ‘আমি আজ অনেক খুশি। এতো কম টাকায় ঈদের ভালো বাজার করতে পারব চিন্তাও করতে পারিনি। লকডাউনে কাজকর্ম নেই। আয়-রোজগার একেবারে বন্ধ। চিন্তায় ছিলাম এবার ঈদে ছেলে-মেয়েদের সেমাইও খাওয়াতে পারব না। কিন্তু জুলুমবস্তির বাজার থেকে কেনাকাটার সুযোগ পেয়ে সেমাই না পোলাও-মাংসও খাওয়াবো সন্তানদের।’

সেচ্ছাসেবী সংগঠন জুলুমবস্তির সভাপতি সুজন খান জানান, ঈদে কর্মহীন মানুষরা যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালো খাবার খেয়ে আনন্দে দিন কাটাতে পারে, এজন্য মাত্র পাঁচ টাকায় ঈদসামগ্রী প্রদান করেছি আমরা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদসামগ্রী তুলে দিয়েছি। ঈদ উপহার পেয়ে মানুষ অনেক খুশি।’

পাঁচ টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি—অসহায় মানুষরা যেন ক্রয় করে নেয়ার অনুভূতি পান। তারা বিষয়টি দান হিসেবে যাতে না নেন, সেটা বিবেচনায় নিয়ে আমরা এটা করেছি। নামমাত্র পাঁচ টাকা নিয়ে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে।’

জুমুলবস্তির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাদের পাশে থেকে সংগঠনের সদস্যদের দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়েও ৩০ ভাগ কমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিচালনা করা হবে।

করোনার শুরু থেকেই অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এছাড়া সংগঠনটি দেশে করোনা শনাক্তের পর থেকে বন্ধুদের সহায়তা নিয়ে জেলা শহরের সমবায় মার্কেট চত্বরে বাজার মূল্যের চেয়ে শতকরা ৩০ ভাগ কমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার খুলে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে বিক্রি করে।

তানভীর হাসান তানু/এএএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]