চুরির অভিযোগে ৫ কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন : প্রধান আসামি গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৫:১৪ পিএম, ১৮ মে ২০২১

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কোমরে রশি বেঁধে পাঁচ কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামি আমির চৌকিদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে চরকিং ইউনিয়নের শুল্লুকিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের। আমির ওই গ্রামের হোসেন আহমদের ছেলে।

এরআগে একই ঘটনায় আরও পাঁচ মাতব্বরকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, রোববার (১৬ মে) সকালে হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুল্লকিয়া গ্রামে জেলেদের মাছ ধারার জাল চুরির অপরাধে পাঁচ কিশোরকে কোমরে রশি বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে নির্যাতন করেন স্থানীয় আমির চৌকিদার।

পার্শ্ববর্তী এক যুবক ঘটনাটি গোপনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। পরে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করেন।

এ ঘটনায় রোববার (১৬ মে) রাতে নির্যাতনের শিকার শিশু পদদাসের বাবা হরিপদ দাস বাদী হয়ে চৌকিদার আমির হোসেন ও পাঁচ মাতব্বরকে আসামী করে হাতিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের গ্রেফতার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হরিপদ দাসের দায়ের করা মামলায় সালিশে উপস্থিত থাকা পাঁচ মাতব্বর ও চৌকিদার আমিরকে আসামি করা হয়। অভিযান চালিয়ে আমরা সকল আসামীকে গ্রেফতার করেছি। আজ (মঙ্গলবার) তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোববার (১৬ মে) সকালে জাল চুরির অপরাধে স্থানীয় জেলে মাতব্বরদের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচ জেলে কিশোরকে দুই হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১০ বেত করে প্রদানের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। পরে চৌকিদার আমির কিশোরদেরকে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন।

এসজে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]