দিনে ২০-২৫ বার আশিকার শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৬:০২ পিএম, ২১ মে ২০২১

দিনাজপুরে অজানা এক রোগে ভুগছে এক শিশু। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে আচমকা তাজা রক্ত বের হয়ে আসছে। স্থানীয় চিকিৎসায় এর কোনো সুরাহা হয়নি। চিকিৎসকরা ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই বাবা-মার।

শিশুটির নাম আশিকা জান্নাত (১২)। অজানা এই রোগে অসহনীয় যন্ত্রণায় ছটফট করছে সে। তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫ বার রক্তক্ষরণ হয় বলে তার স্বজনরা জানান।

আশিকা দিনাজপুর শহরের উপশহর ৪ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের মেয়ে। সে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

jagonews24

আশিকার মা মাহফুজা খাতুন জানান, গত বছরের রোজার সময় একদিন হঠাৎ আশিকার মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়া শুরু হয়। তখন চিকিৎকের পরামর্শে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন থাকার পর সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু আবারও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। প্রথমে মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হলেও পরে নাক, মুখ, কান, চোখ, হাত-পায়ের নখ, হাতের তালু, পায়ের তালু, পিঠ, নাভিসহ বিভিন্ন অংশ দিয়ে রক্ত বের হয়। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫ বার রক্ত বের হয়। রংপুরে নিয়েও তাকে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

তিনি আরও জানান, একটু রক্ত বের হওয়ার পর নিজে নিজে তা বন্ধ হয়ে যায়। এক অংশ থেকে রক্ত বের হওয়ার আগে আবার সে জানতে পারে এবার শরীরের কোন অংশ থেকে বের হবে। তখনই হাতে টিস্যু নিয়ে রক্ত চেপে ধরার জন্য প্রস্তুত থাকে আশিকা। এক বছর ধরে এই ‘অজানা রোগের’ সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে তার মধ্যে এখন আর কোনো ভীতি নেই।

আশিকা জানায়, রক্ত বের হওয়ার আগে ব্যথার কারণে সে বুঝতে পারে কোথায় রক্তপাত হবে। রক্ত বের হওয়া বন্ধ হওয়ার পরও কিছু সময় ব্যথা থাকে সেখানে। আবার ব্যথা চলে যায়।

jagonews24

আশিকার মা মাহফুজা খাতুন জানান, এক বছর ধরে দিনাজপুর ও রংপুরে চিকিৎসা করে তারা কোনো সুফল পাননি। স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থের অভাবে মেয়ের রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা দিতে না পেরে তারা হতাশায় ভুগছেন। শিশু আশিকার অজানা এ রোগের চিকিৎসায় সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিচালক বি কে বোস বলেন, ‘কয়েকদিন আগে শিশু আশিকাকে আমার কাছে এনেছিল। আমি তার আগের নেয়া চিকিৎসার সবকিছু পর্যালোচনা এবং পরীক্ষা করে দেখেছি। দেশের বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্ট দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ও ভালো কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা দিলে সে এই কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।’

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।