পাতানো ভাতিজিকে বিয়ে করে অস্বীকার, কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ২২ মে ২০২১
ফাইল ছবি

পাতানো চাচা গোপনে বিয়ে করার তিন বছর পরও প্রকাশ্যে স্ত্রী স্বীকৃতি না দেয়ায় সুমিয়ারা আক্তার সুমি (২০) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের ময়দানদীঘি বাজারে।

সুমি শুক্রবার বাজারে তার স্বামী ফজলুর রহমান ওরফে ফজেলের (৫০) দোকানে গিয়ে তার সামনে গ্যাসের ট্যাবলেট (ইঁদুর নিধনে) খায়। শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সুমি ভাঙ্গুড়া উপজেলার চকদিগর গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে এবং ভাঙ্গুড়া বিএম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

অভিযুক্ত ফজলুর রহমান ওরফে ফজেল ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের পূর্বরামনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ডিশ (ক্যাবল) ব্যবসায়ী। তার ১ম স্ত্রীসহ দুটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ফজেল পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে সুমির বাবা আব্দুল কাশেমের সাথে ফজেল ভাই (ধর্ম ভাই) পাতেন। কয়েক বছর আগে ফজেল তার পাতানো ভাই আব্দুল কাশেমের মেয়ে সুমির পড়াশোনাসহ সব খরচ বহন করতে থাকেন।

সুমি মাঝে মধ্যে তার পাতানো চাচা ফজেলের বাড়িতে বেড়াতেও যেতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন বছর আগে ২০১৮ সালে উভয়ে গোপনে পাবনায় জনৈক কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন।

ফজেল বিয়ের কোনো কাগজপত্র সুমিকে দেননি। সুমি প্রকাশ্যে স্ত্রী স্বীকৃতি দাবি করলে ফজেল টালবাহানা শুরু করেন। এ অবস্থায় সুমি নিরূপায় হয়ে শুক্রবার (২১ মে) ফজলের দোকানে গিয়ে তাকে স্ত্রী স্বীকৃতি না দিলে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান।

তারপরও ফজেল প্রত্যাখ্যান করলে আত্মহত্যার জন্য সুমি ফজেলের সামনে প্রকাশ্যে গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করেন। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সুমি। ফজেল অসুস্থ সুমিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে ফজলুর রহমান ওরফে ফজেলের মুঠোফোনে শনিবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগ কেটে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, তিনি বিষয়টি গ্রামবাসীর মুখে শুনেছেন। অনেকে বলছেন মেয়েটি অন্তঃসত্তা ছিলেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমির মরদেহ উদ্ধার করে। শনিবার (২২ মে) তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

তিনি জানান, ফজেল এবং সুমি ২০১৮ সালে গোপনে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের কাবিননামার একটি কপি পুলিশ শনিবার হাতে পেয়েছে। তবে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন কিনা তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।

ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আজ শনিবার বিকেলে সুমির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমিন ইসলাম/এমআরএম/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।