ঝড়ে ভেঙেছে ঘর, পাশে দাঁড়ালেন এমপি অপু
কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙেছে মানসিক প্রতিবন্ধী জালাল উদ্দিন ব্যাপারীর জরাজীর্ণ একমাত্র ঘরটি। মাথা গোঁজার ঠিকানাটি হারিয়ে পরিবার নিয়ে আরও অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংবাদটি জানতে পেরে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু এগিয়ে আসেন। তিনি জালাল উদ্দিনকে ঘরটি তুলতে সহায়তা করেন।
জালাল উদ্দিন শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রুদ্রকর হোগলা গ্রামের বাসিন্দা।
রোববার (২৩ মে) বেলা ৩টার দিকে জালালের ঘর পরিদর্শন করেন ইকবাল হোসেন অপু। এ সময় তিনি ঘর তুলতে দুই বান্ডিল টিন ও ২৬ হাজার টাকা দেন। এর আগে ২১ মে সংসদ সদস্যের ছেলে দানিব বিন ইকবাল (আদর) পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।

জালালের সংসারে আছে দুই ছেলে নাহিদ ব্যাপারী (১৯), মানসিক প্রতিবন্ধী ওয়ারিদ ব্যাপারী (১৩) ও এক মেয়ে লামিয়া আক্তার (৩)। খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের নিয়ে কোনো রকম দিন কাটান তিনি।
জালাল উদ্দিন ব্যাপারীর স্ত্রী রোজিনা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘২৫ বছর আগে জালাল উদ্দিনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামী আগে দিনমজুরের কাজ করতেন। আট বছর যাবত মানসিক প্রতিবন্ধী ও শ্বাসকষ্ট ভুগছেন। কোনো কাজ করেন না। সংসারে অনেক অভাব। বড় ছেলে নাহিদ দিন মজুরের কাজ করে। ছেলের উপার্জনে সংসার চলে না। সম্প্রতি ঝড়ে ভেঙে যায় আমাদের ঘরটি। একটা ঘর খুবই প্রয়োজন ছিল। স্বামীর চিকিৎসাও প্রয়োজন। এমপি স্যারে স্বামীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিছে। ঘরও তুলে দিবে। দোয়া করি আল্লাহ এমপি স্যারকে ভালো রাখুক।’
প্রতিবন্ধী জালাল উদ্দিন ব্যাপারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি গরিব, টাকার অভাবে ঘর তুলতে পারিনি। বাবার কাছ থেকে তিন শতাংশ জমি পেয়েছি। সেখানেই একটি ভাঙা ঘর ছিল। তাও ঝড়ে ভেঙে পড়েছে। আজ এমপি টিন ও নগদ টাকা দিল। আমি খুবই খুশি। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে টিনের ঘরে থাকব।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার মো. হাফিজুর রহমান খান, ইমাম হোসেন খানসহ রুদ্রকর হোগলা গ্রামের অনেকেই জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুস্থ অসহায়দের ঘর দিচ্ছেন। জালালের একটি থাকার ঘর প্রয়োজন ছিল।

সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু জাগো নিউজকে বলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে টিন ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে তার ঘর সম্পূর্ণ হবে। তাছাড়া জালালের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঢালী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার মো. হাফিজুর রহমান খান, আওয়ামী লীগের নেতা সিরাজুল ইসলাম ঢালী, জেলা যুবলীগের নেতা সুমন পাহাড়, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কেএম শরিফুল ইসলাম বাবু, সহ-সম্পাদক শফিকুর রহমান খান, সদর পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজু হোসেন, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম ব্যাপারী, যুবলীগ নেতা দ্বীন ইসলাম খান, শেখ মোহাম্মদ জামাল প্রমুখ।
মো. ছগির হোসেন/জেডএইচ/এমকেএইচ