চুয়াডাঙ্গার সেই সাড়ে ৪ কোটি টাকা খুঁজতে গেল তদন্ত কমিটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ০৪:০৩ পিএম, ০৭ জুন ২০২১

চুয়াডাঙ্গায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ওষুধ ও চিকিৎসার অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে বরাদ্দ দেয়া দেয়া ১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে সাড়ে চার কোটি টাকার হদিস না পাওয়ার ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

রোববার (৬ জুন) বিষয়টি তদন্ত করতে চুয়াডাঙ্গায় আসে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে তদন্ত।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনা পরিস্থিতিতে ওষুধ ও মেডিকেল সার্জিক্যাল রিকয়ারমেন্টস (এমএসআর) দ্রব্যাদি কিনতে বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে ৪ কোটি টাকার ওষুধ না আসার অভিযোগ ওঠে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এতে প্রধান করা হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. বিধান চন্দ্র ঘোষকে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান, সদর হাসপাতালের সাবেক আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও), চার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ভাণ্ডার রক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিত হতে ৩ জুন একটি চিঠি দেয় তদন্ত কমিটি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা নিরূপণের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি ৬ জুন সকাল ১০ টায় তদন্ত কার্য সম্পাদনের জন্য চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে যাবেন। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা ও ভাণ্ডার রক্ষককে উল্লেখিত তারিখ ও সময়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় চুয়াডাঙ্গায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ওই সময় ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ওষুধ ও এমএসআর সামগ্রী প্রাপ্তি সংক্রান্ত সব নথি, মজুদ বই সঙ্গে আনার জন্য অনুরোধ করা হয়।

রোববার রাতে তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. বিধান চন্দ্র ঘোষ সাংবাদিকদের সঙ্গে তদন্ত সম্পর্কে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা নিরূপণ করতে আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করতে এসেছি। তদন্ত রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হবে।’

তদন্তের বিষয়ে মন্তব্য করেননি চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তাও।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে ২০১৯-২০ অর্থ বছর লোকালভাবে ওষুধ কেনার জন্য চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন অফিসে ১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার একটি বরাদ্দ আসে। বরাদ্দকৃত ওষুধ ঠিকাদারের মাধ্যমে কেনা হয়। কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী ১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে সাড়ে ৪ কোটি টাকার ওষুধ আসে না।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবীরকে প্রধান করে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন। সেই বোর্ডের মাধ্যমে সাড়ে ৪ কোটি টাকার ওষুধ বুঝে পেয়েছে এই মর্মে বোর্ড কর্তৃক বিল পাস করেন।

ওই বোর্ড ঠিকাদারকে বিল পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তড়িঘড়ি করে হিসাবরক্ষক অফিসে পাঠায়। এ বিষয়টি এক কান দু’কান করে সদর হাসপাতাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাড়ে ৪ কোটি টাকার বিষয়টি হাসপাতাল এলাকায় আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের ওষুধ ক্রয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ২০২০ সালের ২৭ ও ২৮ জুন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট হয়ে ১ জুলাই বাদী হয়ে সদর থানায় দুই সংবাদকর্মীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবীর। তিনি বর্তমানে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান তদন্তের বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সালাউদ্দীন কাজল/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।