প্রতিদিন নওগাঁ থেকে কুরিয়ারে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে ৫০ টন আম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১০:৩৯ এএম, ১১ জুন ২০২১

চলছে মধুমাস। দেশে আম উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জেলা নওগাঁ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ জেলার আম চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সরাসরি বাগান থেকে পাইকারি ক্রেতাদের কাছে আম সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। আর বাইরের জেলার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সুমিষ্ট আম পাঠাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এভাবে জেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টন আম কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে এসএ পরিবহন, সুন্দরবন, জননী, ইউএস বাংলা, করতোয়া, জি-কুরিয়ার, আহমদিয়া, রকি, শাহিন, আহমেদ পার্সেলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কুরিয়ার সেবা দিচ্ছে।

কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর খরচেও তারতম্য রয়েছে। এসএ পরিবহনে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পাঠাতে খরচ ১৫ টাকা, ঢাকার বাইরে ২০ টাকা এবং উত্তরবঙ্গে ১২ টাকা। আর সুন্দরবন কুরিয়ারে ঢাকায় পাঠাতে খরচ কেজিতে ১২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬ টাকা।

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের শাখা রয়েছে জেলার ১১টি উপজেলায়। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে অন্য কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শাখা নেই।

তবে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো আম নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি জেলার সাপাহার উপজেলা থেকে ঢাকায় নাগফজলি আম পাঠান শামিনুর রহমান।

তিনি বলেন, চাষিদের কাছ থেকে মণ হিসেবে (৪৫ কেজি) আম কিনে ক্যারেটে প্যাকেট করলে ওজন দাঁড়ায় ৪৭ কেজি। সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে ক্যারেটের ১ কেজি ওজন বাদ দিয়ে ১২ টাকা কেজি হিসেবে পাঠানোর খরচ পড়ে ৫৫২ টাকা। আমাকে ৭২ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। এদিকে, কুরিয়ার সার্ভিস ৪০ কেজিতে মণ ধরছে।

সাপাহারের অনলাইন আম ব্যবসায়ী সুরত জামান বলেন, ক্রেতাদের খরচ কিছুটা কমাতে ফলের কার্টনে প্যাকেট করে সুন্দরবন কুরিয়ারে পাঠানো হয়। প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ মণ আম কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। ৩-৪ দিন পর ক্রেতাদের হাতে আম পৌঁছে। আম পাওয়ার পর ক্রেতারা ফোন করে অভিযোগ করে পাকা আম পচে যাওয়ার অভিযোগ করছেন।

jagonews24

বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের এসএ পরিবহনে আম কুরিয়ারে করতে গিয়েছিলেন আকতার হোসেন। তিনি জানান, কার্টনসহ ২২ কেজি আম ঢাকায় কুরিয়ার করেছেন। যেখানে ৩০০ টাকা খরচ পড়েছে। প্রাপকের ঠিকানা থেকে এসএ পরিবহন কাছে হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই পাঠাতে হচ্ছে।

নওগাঁ এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার সারওয়ার বলেন, জেলায় এসএ পরিবহনের আর কোনো শাখা নাই। জেলা শহরের একমাত্র শাখা থেকে প্রতিদিন প্রায় চার টন আম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যায়। আমের কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই দুইদিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হয়। যদি প্লাস্টিকের ক্যারেটে প্যাকেট করা থাকে তাহলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। প্রতি কেজিতে নির্ধারিত ডেলিভারি চার্জের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিস বলতে পারবে।

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার শাবিনুর রহমান শিমুল বলেন, জেলার ১১টি উপজেলায় তাদের শাখা আছে। যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১০ টন আম দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। আম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য গ্রাহকদের বস্তায় না পাঠিয়ে ক্যারেটে করে দিতে বলা হচ্ছে। ক্যারেটে দিলে আম ভাল থাকে। বিভিন্ন জায়গায় প্যাকেট ওঠানামা করতে ও যানজটে দীর্ঘসময় রাস্তায় পরিবহনের গাড়ি আটকে থেকে অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অনেকে না বুঝে পাকা আম কুরিয়ার করেন। দীর্ঘসময় প্যাকেটে থাকার কারণে সেগুলো নষ্ট হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা মণ হিসেবে ওজন করে থাকি। আর ব্যবসায়ীরা ৪৫ কেজি বা ৪৮ কেজিতে মণের হিসেব করেন। আর এ কারণে গ্রাহকরা অনেক সময় কুরিয়ার করতে এসে আমের ওজন নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন।

আব্বাস আলী/এসএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]