এ যেন ‘ডিম গাছ’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৩:৫৩ পিএম, ১১ জুন ২০২১ | আপডেট: ১২:০৯ এএম, ১২ জুন ২০২১

রঙ্গন গাছে একসঙ্গে অনেকগুলো ফুল ধরবে, এমনটাই তো হওয়ার কথা। কিন্তু না, ওই গাছে ফুল না ধরে যেন ডিম ধরেছে! আর এই কাজটি করেছে রাতা।

রাতা রহমান। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমানের একমাত্র মেয়ে। পড়ে শেরেবাংলা নগর গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগে। স্কুল লম্বা সময় ধরে বন্ধ। তাই মা-ভাইসহ অবস্থান করছে বাবার কর্মস্থল কুমিল্লার শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর এলাকায়। সেখানে নানা রকম সৃজনশীল কাজ করে চলেছে সে।

jagonews24

আসল ঘটনা হলো বাসায় যে ডিম খাওয়া হয়, তার খোলস ঝুলিয়ে দিচ্ছে ফুলগাছের কাণ্ডে। শুরুতে দেখলে যে কেউ অবাক হবেন। ভাববেন, আসলেই বুঝি গাছে ডিম ঝুলে আছে! অনলাইন ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে গাছের ডালে ডালে নান্দনিক কারুকাজ, ছবি আঁকা, বাবার সঙ্গে ছুটির দিনে শাকসবজি চাষ ইত্যাদি করে এখন সময় পার করছে রাতা।

রাতা রহমান জানায়, ব্যতিক্রম কিছু করতে পারলে তার ভালো লাগে। অলস সময়ে তাই ময়নামতি জাদুঘরের রঙ্গন গাছের ডাল ছাঁটাই করে ডিমের খোসা লাগিয়ে দিয়েছে সে। এতেই দূর থেকে মনে হবে যেন গাছটিতে ডিম ধরেছে!

jagonews24

রাতার বাবা ড. আতাউর রহমান বলেন, ‘ও তখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হলো। সেখানেও রাতা অদ্ভুত ঘটনা ঘটাল। সে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকল। শিশু বঙ্গবন্ধু হাফপ্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরা। বঙ্গবন্ধুর অবমাননা হয় কি-না, ওই ভয়ে ছবিটি জমা দিতে চাইনি। পরে চিন্তা করলাম, ও তো শিশু। শিশুর শিশু মনে যা ধরেছে, তা-ই এঁকেছে। পরে তার মায়ের পরামর্শে জমা দিলাম। এ ছবি নিয়ে তোলপাড় হলো। রাতা ওই ছবির জন্য প্রথম স্থান অর্জন করে। শিল্পী হাশেম খান তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।’

এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]