প্রতিবন্ধীর জমি দখল, প্রতিবাদ করায় মাটিতে পুতে ফেলার হুমকি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ১৪ জুন ২০২১ | আপডেট: ১০:০২ পিএম, ১৪ জুন ২০২১
ইনসেটে ভুক্তভোগী মো. আলমগীর গাজী

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মো. আলমগীর গাজী (৩৫) নামে এক প্রতিবন্ধীর জমি দখলসহ জীবননাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রুহুল আমিন গাজীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর বাড়ি উপজেলার নড়াগাতি থানার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আজাহার গাজীর ছেলে।

এ ঘটনায় গত ৩ জুন তিনি নড়াইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ব্রেইনস্ট্রোক করায় মো.আলমগীর গাজীর ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেছে। সেই সুযোগে প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রুহুল আমিন গাজী তার পৈত্রিক বসত ভিটা সংলগ্ন ৫০ শতক জমি জবর দখল করে সেখানকার ফলদ বৃক্ষাদি ভোগদখল করছেন। এ ঘটনায় তিনি নড়াগাতি থানায় অভিযোগ দেন। এরপর গত ২৮ মে পুলিশ আইনজীবীদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য থানায় সালিশের আয়োজন করে।

এ সময় তারা রুহুল আমিনকে আলমগীরের বসত ভিটার জবর দখলকৃত জমি ছেড়ে দিতে বলেন। তবে রুহুল আমিন তা অমান্য করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন প্রতিবন্ধী আলমগীরের বসত ভিটা সংলগ্ন আরও কিছু জমিতে খুঁটি পুতে দখলে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, জমি দখলের প্রতিবাদ করায় ওই প্রতিবন্ধীকে খুন করে মাটিতে পুতে ফেলার হুমকি দেয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সালিশে থাকা আইনজীবী অ্যাডভোকেট ননী গোপাল ঘোষ বলেন, ‘সালিশ থেকে প্রতিবন্ধীর জমি ছেড়ে দিতে বলা হলে রুহুল আমিন তা অমান্য করে।’

প্রতিবন্ধী আলমগীর গাজী অভিযোগ দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অভিযোগ দায়েরের পর রুহুল আমিন আমার বসত ভিটার আরও জমিতে খুঁটি পুতে দখল করে নিয়েছে। এছাড়া জমিতে থাকা গাছের ফলমূল নেয়াসহ নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় জীবন বাঁচাতে আমার পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুহুল আমিন গাজী প্রতিবন্ধীর জমি দখলের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি জমি পাবেন তাই দখল করেছেন। শুধু আলমগীরের জমি নয় তার চাচা নজির হোসেন গাজীর বাড়ি সংলগ্ন জমিও তিনি দখল করেছেন।

তবে তিনি কতটুকু জমি পাবেন আর কতটুকু দখল করেছেন তা জানতে রুহুল আমিন পরিমাপ করে কোনো জমি দখল করেননি বলে জানান।

জানতে চাইলে নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন থানায় সালিশ বৈঠক হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘মীমাংসা বৈঠকের পর কী হয়েছে তা আমি জানি না। এরপর কেউ আমার থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

হাফিজুল নিলু/এমআরআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]