ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্তকে তিন থাপ্পড়, মাতবরের পকেটে জরিমানার টাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৩:৪২ এএম, ১৭ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৩:৪৬ এএম, ১৭ জুন ২০২১
প্রতীকী ছবি

নওগাঁর মহাদেবপুরে এক স্কুলছাত্রীর (১৪) ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে খোদাবক্স (৪৪) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি তিন সন্তানের জনক। গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন) উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে গ্রাম্য সালিশে অভিযুক্তকে তিনটি থাপ্পড় দিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন মাতবররা। তবে জরিমানার সেই টাকাও ভুক্তভোগীর পরিবারকে না দিয়ে এক মাতবরের কাছে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১০ জুন স্কুলছাত্রীর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী খোদাবক্স তার ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশী এক নারী এগিয়ে আসলে পালিয়ে যান খোদাবক্স। পরে স্কুলছাত্রী তার ভাবিকে ঘটনাটি জানায়।

প্রথমে বিষয়টি চাপা থাকলেও ঘটনার তিনদিন পর এলাকায় জানাজানি হয়। এরপর গত ১৩ জুন রাতে গ্রামে সালিশের আয়োজন করা হলে ঘটনার সত্যতা মেলে। তখন খোদাবক্সের শাস্তি স্বরূপ তিনটি থাপ্পড় ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বৈঠকে উপস্থিত মাতবররা। তবে জরিমানার টাকা ভবিষ্যতে স্কুলছাত্রীর বিয়েতে খরচের জন্য প্রধান মাতবর সেকেন্দার তার কাছে রেখে দেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাবি অভিযোগ করে বলেন, ‘মাতবররা তাদের ইচ্ছেমতো বিচার করেছেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরও তিন সন্তানের জনক অভিযুক্ত খোদাবক্সকে তিনটি থাপ্পড় দিয়ে তার ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি আপোসের চেষ্টা করা হয়। আর জরিমানার টাকাও মাতবরদের কাছেই আছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলেও গ্রামে বসবাস করতে হবে। এজন্য মাতবরদের বাইরে গিয়ে আমরা কিছু করতে পারছি না। আমাদের যে সম্মানহানি হয়েছে মাতবররা তো সেটা আর ফিরে দিতে পারবে না।’

এ ব্যাপারে গ্রামের প্রধান মাতবর সেকেন্দার বলেন, ‘গ্রামের লোকজনের সবার যৌথ উদ্যোগে রাজ্জাকের বাড়িতে সালিশ হয়। যেখানে রাজ্জাক, দুলাল ও মিঠুনসহ গ্রামের অন্য মাতবর ও লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সালিশে উপস্থিত সবার সিদ্ধান্তে দোষী ব্যক্তির ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জরিমানার ২০ হাজার টাকা আমার কাছে গচ্ছিত আছে। যখন ওই স্কুলছাত্রীর বিয়ে হবে সেই বিয়েতে জরিমানার এই টাকা খরচ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

গ্রামের আরেক মাতবর রাজ্জাক বলেন, ‘বৈঠকে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। এ ঘটনা তেমন কোনো বিষয় না। আমিসহ গ্রামের সব মাতবরদের সিদ্ধান্তে ঘটনাটি আপোস করা হয়েছে।’

জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

আব্বাস আলী/এমআরআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]