খাল তো নয় যেন ময়লার ভাগাড়!
অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা, অবৈধ দখল, দোকানপাট নির্মাণ ও কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে অস্তিত্ব বিলিনের পথে মতলব উত্তরের ছেংগারচর খাল। প্রাচীনতম এ খালটির পানিপ্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও। ব্যবসায়ীদের খামখেয়ালিতে খালে বাজারের সব ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ইতোমধ্যে খালটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
মূলত ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারিত না থাকায় বাজারের সব ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে নিয়মিত। এছাড়া নির্মিত দোকান-পাটগুলো অপরিকল্পিতভাবে তৈরি হওয়ায় দখলদারদের কবলে পড়ে যাচ্ছে খালটি। এতে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে খালটি। ময়লার স্তূপ এমন আকার ধারণ করেছে যে, সেখানে এখন আর পানি প্রবাহ দূরের কথা সামান্য পানির সন্ধান পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও সামান্য যেটুকু পানি আছে সেই আবদ্ধ পানি ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো এলাকাজুড়ে। সেখানে জন্ম নিচ্ছে ক্ষতিকারক মশা। যা স্থানীয় মানুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, পৌরসভা থেকে ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে সবাই খালটিতেই ফেলছেন।
এছাড়াও বাজারের হোটেলগুলোর সব সমস্ত ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এ খালে। যার কারণেও খালটি এখন ভরাট প্রায়। দ্রুত খালটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দ্রুতই বিলীন হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের উপরে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট কাঠের তৈরি ব্রিজ। এছাড়াও খালের ওপারে অনেকেই বাড়িতে যাওয়ার জন্য খালের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে ফেলেছেন। যার জন্য খালের পানি প্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া খাল ভরাট করে কেউ কেউ আবার তৈরি করেছেন বাগান। যা উচ্ছেদ করা এখন অসম্ভবের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতীতে এই খালটি দিয়ে বড় বড় নৌকা চলাচল করত। বাজারের সকল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল এই খালটি দিয়েই তাদের ব্যবসায়িক মালামাল নিয়ে আসতো।
এ বিষয়ে ছেংগারচর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. মান্নান জানান, ছেংগারচর পৌরসভার পক্ষ থেকে বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট একটি স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে কিন্তু বাজারের ব্যবসায়ীদের অসচেতনতায় খালটির এ অবস্থায় তারা কেউই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা না ফেলে খালে আবর্জনা ফেলছেন। এতে খালটি তার অস্তিত্ব হারাচ্ছে। যাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ কৃষক।
তিনি জানান, স্থানটি সংস্কার এবং পুনর্খননের জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটি সভায় আলোচনা করেছি আশা করছি খুব দ্রুতই সংস্কার এবং খননের কাজ শুরু করতে পারবে।
নজরুল ইসলাম আতিক/এমআরএম/এএসএম