টিআর-কাবিটা প্রকল্পের কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১০:৪০ এএম, ২৩ জুন ২০২১
রাস্তার গর্তগুলো ভরাট আর উঁচুনিচু সমান করেই প্রকল্পের কাজ শেষ করে দেয়া হয়

লালমনিরহাটে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিটা) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। মাঠ পর্যায়ে খোঁজ না নিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসে কাজ না করা এসব প্রকল্পের চেক দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক তৃতীয় পর্যায়ে কর্মসূচির আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পে সদর উপজেলার মোঘলহাট ইউনিয়নে নিজাম মুন্সির বাড়ি থেকে সুজালের বাড়ির পশ্চিমে তেপতি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এ প্রকল্পের সভাপতি মোঘলহাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আয়নাল হক। তিনি শুধু রাস্তার উঁচু নিচু সমান করে প্রথম দফার বিল উত্তোলন করে আর কাজ করেননি। এখন বাকি কাজ না করে পুরো টাকা উত্তোলন করতে ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে পিআইও অফিসে ঘুরছেন।

সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মোসলেম উদ্দিন নিজ এলাকার তিন কানিয়া মাঠ থেকে আব্দুর মহুরীর বাড়ি হয়ে সিদ্দিকুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ৩ লাখ ৭ হাজার ২৮৪ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি নিজেই প্রকল্পের সভাপতি। তিনিও পুরো কাজ না করেই সম্পূর্ণ বিল উত্তোলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পে খোলাহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট কাজের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক জুলফিকার আলী বুলু নিজেই প্রকল্পের সভাপতি। তিনি মাটি ভরাট না করেই পুরো বিল উত্তোলন করতে (পিআইও) অফিসে ঘুরছেন।

সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হারাটি ডিএসআই দাখিল মাদরাসা সংস্কারে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি ও ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আব্দুর সালাম সরকার মঞ্জু কাজ না করেই বিল উত্তোলনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

lalmoni1

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও লালমনিরহাট সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জিএম কাদেরের নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় পার্টির নেতাকর্মীরা টিআর-কাবিটা প্রকল্পের কোনো কাজ ঠিক মতো করছেন না। ক্ষমতা দেখিয়ে একের পর এক বরাদ্দ নিয়ে এসে নেতাকর্মীরাই লুটপাট করে খাচ্ছেন। যে পরিমাণ বরাদ্দ তার অর্ধেক টাকা দিয়েও যদি কাজ করা হতো তাতে কিছুটা হলেও রাস্তাগুলো ভালো থাকতো। কিন্তু তারা শুধু রাস্তার গর্তগুলো ভরাট আর উঁচু নিচু সমান করেই পুরো বিল উত্তোলন করছেন।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা কাজ না করেই অফিসে পার্টির ক্ষমতা দেখিয়ে এসব বিল উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোঘলহাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আয়নাল হক জানান, তিনি কোনো প্রকল্পের কাজ করছেন না। তার নাম দিয়ে অন্য কেউ কাজ করতে পারে।

তবে প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে তার নামের স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, ‘কাজ না করে কেউ পুরো বিল উত্তোলন করতে পারবে না। সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে তার পরেই বিল উত্তোলন করার অনুমতি দেয়া হবে।’

রবিউল ইসলাম/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]