৩ নম্বর ইট দিয়ে তৈরি হচ্ছে ১৬ লাখ টাকার ওয়াশ ব্লক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ২৪ জুন ২০২১

বগুড়ার শেরপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত হচ্ছে ওয়াশ ব্লক। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের অধীন এ নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওয়ার্ক অর্ডারের (কার্যাদেশ) শর্ত ভেঙে তিন নম্বর ইট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ১৬ লাখ টাকার ওয়াশ ব্লক।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় টুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ বন্ধ দেয়া হয়। একই সঙ্গে নিম্নমানের ইটসহ নির্মাণসামগ্রী দ্রুত অপসারণ করে উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে এক কোটি টাকা ব্যয়ে মোট আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে চতুর্থ প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেওড়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত হচ্ছে ওয়াশ ব্লক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রকল্পের আওতায় মালিহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাতিয়ানী, দড়িহাসড়া ও টুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

এসব ওয়াশ ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। তবে সবচেয়ে বেশি নিম্নমানের কাজ হচ্ছে টুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজে। ১৬ লাখ টাকায় ওই ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজটি করছে মেসার্স ফাতেমা ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

jagonews24

ওয়ার্ক অর্ডারের শর্ত ভেঙে তিন নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া সিমেন্ট কম দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতল ওই ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে ইট-বালু ও সিমেন্ট। কিন্তু ইটগুলো সব তিন নম্বর। কিছু কিছু ইটের মান খুবই খারাপ।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাসখানেক আগে থেকে ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। প্রথমে পিলার তৈরি করা হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী রড, খোয়া, সিমেন্ট না দেয়া হলেও সেটি ধরা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তিন নম্বর ইট এনে কাজ শুরু করার পর অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফাতেমা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সোলায়মান আলী বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, ইটগুলোর মান খারাপ হওয়ায় তা পরিবর্তন করে ভালোমানের ইট এনে কাজ সম্পন্ন করা হবে। এতে কোনো আপত্তি নেই বলে দাবি ঠিকাদার সোলায়মান আলীর।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইটগুলো নিম্নমানের বলে স্বীকার করেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সাহাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েই টুনিপাড়া স্কুলের ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। ইটগুলো নিম্নমান হওয়ায় ওইসব ইট দিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। তাই ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়।

এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।