লক্ষ্মীপুরে ফেরিঘাট নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ, সহিংসতা এড়াতে ডিসির সভা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১২:০০ এএম, ০৪ জুলাই ২০২১

লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটের মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চ ও ফেরিঘাটের ইজারা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তিন দিন ধরে বিবাদমান পক্ষ দুটি ঘাট এলাকায় লোকজন নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে শক্তির মহড়াও দিচ্ছে। তারা চাঁদপুরের বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক কায়সারুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা পরিষদ থেকে ঘাটের ইজারা পাওয়া ইসমাইল হোসেন পাঠানের নেতৃত্বে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এদিকে, সহিংসতা এড়াতে শনিবার (৩ জুলাই) লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ সভা করেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষের এ সভায় ঘাটের মালিক দাবিদার লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ ও চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের বিবাদমান পক্ষদুটির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ঘাটটি জেলা পরিষদের মালিকানা ও ইজারা বৈধ বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএকে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও বৈধ কাগজপত্র দেখালে জেলা পরিষদে মালিকানা হস্তান্তর করারও সিদ্ধান্ত হয়। এতে বিআইডব্লিউটিএ থেকে ঘাটটি ইজারা নেয়া পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

jagonews

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মাধ্যমে ৯০ লাখ টাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থক সদর উপজেলার ইসমাইল হোসেন পাঠানকে ঘাটটি ইজারা দেয় লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ। সে অনুযায়ী সম্প্রতি ইসমাইলকে ঘাটও বুঝিয়ে দেয়া হয়। তবে, ২০১৭ সালে মজুচৌধুরীর হাট ঘাটটি নৌ-বন্দর হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ায় নিয়মানুযায়ী ঘাটের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর।

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ ঘাটের ইজারা দেয়া হচ্ছে।

এরই মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে জন্য নদীবন্দরের আওতায় লঞ্চ-ফেরি ঘাট, পার্কিং ইয়ার্ড ও শুল্ক আদায়ের জন্য ৫৪ লাখ টাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক সদরের নুরুল্যাপুর গ্রামের শিমুল চক্রবর্তীকে ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার দুই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জানান, জেলা পরিষদ এবং বিআইডব্লিউটিএ থেকে আলাদা ইজারা নেয়া দুই ব্যক্তির পক্ষ নিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুটি গ্রুপ। উভয়পক্ষের সঙ্গে সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতাও সম্পৃক্ত। ঘাটের দখল পেতে তাই দুই পক্ষই শক্তির মহড়ায় নেমেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিসংতার আশংকা রয়েছে।

জেলা পরিষদের ইজারাদার ইসমাইল হোসেন পাঠান জানান, বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সঠিক নয়। তার সঙ্গে কয়েকজনের কথাকাটাকাটি হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার শিমুল চক্রবর্তী বলেন, আমাদের ঘাটটি নৌ-বন্দর হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ায় এটির মালিকানা বিআইডব্লিউটিএর। এজন্য আমি বৈধভাবে বিআইডব্লিউটিএ থেকে ইজারা নিয়েছি। এখন পেশীশক্তি আর খামখেয়ালিভাবে জেলা পরিষদ তামাশা করছে। এ বিষয়ে আমি উচ্চ আদালতে যাব।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, এ ঘাটটির মালিকানা আমাদের। বৈধভাবে এটি ইজারা দেয়া হয়েছে। হঠাৎ লকডাউনের মধ্যে চাঁদপুরের বিআইডব্লিউটিএর ডিডি ঘাটে আসায় একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে হানাহানি এড়াতে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। বিআইডব্লিউটিএ যদি মালিকানার বৈধ কোনো আদেশ আনতে পারে তাহলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, মজুচৌধুরী ঘাটের মালিকানা নিয়ে জেলা পরিষদ এবং বিআইডব্লিউটিএর মধ্যে বিরোধ রয়েছে। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি এড়াতে দুই পক্ষকে নিয়ে সভা করা হয়েছে। সভায় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ঘাটটি জেলা পরিষদের মালিকানা ও ইজারা বৈধ বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ আন্তঃমন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত ও বৈধ কাগজপত্রের দাখিল করলে জেলা পরিষদের মালিকানা হস্তান্তর করে দেবে।

কাজল কায়েস/এসএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।