নাগরপুর হাসপাতাল : নেই টেকনিশিয়ান, হয় না এক্সরে-আলট্রাসনোগ্রাফি
নেই টেকনিশিয়ান। হয়না এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি। এরপরও কাগজে-কলমে রয়েছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় দেয়া হয়না জনবল। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা।
এখানে মান্ধাতার আমলের (এনালগ) একটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও সেটি দীর্ঘ আট মাস ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এক্স-রে মেশিন না থাকায় এখানকার টেকনিশিয়ান গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেপুটেশনে কাজ করছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। প্রয়োজনীয় অবোকাঠামো নির্মাণের পর ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক সাংসদ প্রয়াত খন্দকার আব্দুল বাতেন। উদ্বোধনের হলেও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পোস্টিং দেয়া হয়নি কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। নেই গাইনী সার্জন। বহু বছর ধরে এখানে অ্যানেসথেসিয়া (অজ্ঞানকারক) ডাক্তার নেই। নেই আল্ট্রা মেশিন। ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩০ শয্যার জনবল দিয়ে কোনোমতে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। এতে চরম দুর্ভোগ আর সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের চাহিদা দেয়া হয়েছে। উপজেলা হেলথ কেয়ার (ইউএইচসি) থেকে এই মুহূর্তে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন। তবে একটি এনালগ মেশিন দ্রুত পাওয়া যাবে।
ডিজিটাল যুগে এনালগ মেশিনে পরীক্ষা সঠিক রোগ নির্ণয় রির্পোট পাওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক টেকনিশিয়ান মন্তব্য করে বলেন, ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল’।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, একটি নতুন এনালগ এক্স-রে মেশিন সহসা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুকূলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় উপজেলাবাসির প্রত্যাশিত চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএইচ/এমএস