পাথর বামপাশের কিডনিতে, ডাক্তার কাটলেন ডানপাশ!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:১৭ এএম, ০৯ জুলাই ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রোগীর বাম কিডনির পাথর অপসারণ করতে গিয়ে ডান পাশ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। শফিকুল ইসলাম নামের ওই চিকিৎসক ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট। ভুক্তভোগী রোগী দিনমজুর আজিমুল খান (৪০) সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের দক্ষিণ জাঙ্গাল গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর আজিমুল খান বেশকিছু দিন যাবত অসুস্থ ছিলেন। তাই চিকিৎসার জন্য জেলা শহরের জেল রোডস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডা. শফিকুল ইসলামের কাছে যান। সেখানে পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর আজিমুলের বাম কিডনিতে পাথর রয়েছে এবং অস্ত্রোপচার করে সেই পাথর অপসারণ করতে হবে বলে জানান ডা. শফিকুল। দিনমজুর আজিমুলের স্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর টাকা নেই জানিয়ে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়ার জন্য বলেন ডা. শফিকুলকে। এরপর গত ২৭ জুন হাসপাতালে আজিমুলের অস্ত্রোপচার করেন ডা. শফিকুল।

আজিমুলের স্ত্রী খালেদা বেগম জানান, ওইদিন সকাল ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের জন্য আজিমুলকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর দেড়টার দিকে ওটি থেকে বের করার পর আজিমুল জানান, চিকিৎসক পাথর অপসারণের জন্য প্রথমে বাম পাশে না কেটে ডান পাশ কেটে ফেলেন। এরপর আবার বামপাশ কাটেন। পরে ডানপাশ কাটার ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এটি দুর্ঘটনা।’ তবে দুই পাশ কাটার জন্য এখন আজিমুলের হাঁটাচলা করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান খালেদা।

এ ব্যাপারে ডা. শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের এমন ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে ভালো করে না জেনে এবং কাগজপত্র না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।