২২ মাসের বকনা দিচ্ছে দিনে ৪ লিটার দুধ
বকনাটির বয়স ২২ মাস। গত একমাস ধরে ‘ময়না’ নামের এ বকনাটি দিনে চার লিটার করে দুধ দিচ্ছে! ব্যতিক্রমী এ ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার পূর্বধলার খলিশাউড় ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামে।
এ সংবাদ শুনে প্রতিদিন গরুর মালিকের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। অনেকেই দুধ কিনে নিচ্ছেন, কেউ কেউ গরুটি বেশি দাম দিয়ে কেনারও আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ধারণা, হরমোনজনিত কারণে ঘটছে এমন ঘটনা।
জানা যায়, ২২ মাস বয়সের কালো রঙয়ের এ বকনাটির মালিক হায়দার আলী (৫২)। তিনি উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের একজন কৃষক।
শুক্রবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কৃষক হায়দার আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের গ্রাম থেকে উৎসুক ১৫-২০ জন ওই বাড়িতে ভিড় করছেন। এ সময় হায়দার আলী দুধ সংগ্রহ করছিলেন।
তিনি জানান, তিনি প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুধ সংগ্রহ করেন তিনি। বিকেলেও একই পরিমাণ দুধ সংগ্রহ করেন। একবেলা দুধ সংগ্রহ না করলে বকনার ওলান ফুলে শক্ত হয়ে যায়। তিনি গত একমাস ছয়দিন ধরে এভাবে দুধ সংগ্রহ করছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘দিনে দুইবার চার লিটারের বেশি দুধ সংগ্রহ করি। প্রথম প্রথম মানুষকে দুধ বিলিয়ে দিতাম। গত দুই সপ্তাহ ধরে দুই লিটার ৮০ টাকা দরে ক্রেতাদের বাড়িতে দিয়া আসি। আর দুই লিটার বাড়িতে রেখে মানুষের কাছে বেচি। একটু যা থাকে তা আমরা খাই।’
কৃষক হায়দার আলী জানান, তিনি একজন গরিব চাষি। দুই বছর আগে একটি বিদেশি জাতের গাভি এ বকনাটিসহ ৮০ হাজার টাকায় কিনেন। পরে তার মেঝ মেয়ে বাছুরটির নাম রাখে্ ‘ময়না’। এরমধ্যে চারমাস আগে গাভিটি আরেকটি বাছুর জন্ম দিলে তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় সেটি বিক্রি করেন।

তিনি আরও জানান, আর ময়না নামের বকনাটিকে লালন-পালন করে আসছেন। মাসখানেক আগে সেটিকে গোসল করাতে গিয়ে ওলান ফোলা দেখে ধারণা করেন, সেখানে দুধ জমেছে। তিনি তাৎক্ষণিক ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম দুদিন এক লিটার দুধ পান। এখন প্রতিদিন চার লিটার, আবার কখনো সাড়ে চার লিটার দুধ সংগ্রহ করেন।
তিনি বলেন, ‘অনেকেই বকনাটি কিনতে যাচ্ছে। কিন্তু আমি এটি বিক্রি করবো না। এটি এখন আমার সোনার হরিণ। প্রত্যেক দিন চার কেজি দুধ বেচে ৩২০ টাকা পাই। তা দিয়া সংসারের খরচ করি। আল্লার কাছে শুকরিয়া আদায় করি বকনাটির জন্য।’
বাছুর দেখতে আসা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই গরু লালনপালন করি। কিন্তু কখনো এরকম বাছুর ছাড়া দুধ দিতে দেখিনি। এ ঘটনা শুনে তাই দেখতে এসেছি। ঘটনার সত্যতাও পেয়েছি।’
স্থানীয় বাবুল মিয়া ও মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত যে গাভী বাচ্চা জন্ম দেয়, সেই গাভীই দুধ দিয়ে থাকে। ২২ মাসের বকনাটি দুধ দেয়- এটি একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান জানান, হরমোনের কারণে এমন হচ্ছে। অক্সিটোসিন হরমোন যদি বেড়ে যায় তাহলে এরকম বকনা দুধ দিতে পারে। এটা নিয়ে কৌতূহলের কিছু নেই। যদি এ দুধ স্বাস্থ্যসম্মত হয় তাহলে এটি যে কেউ খেতে পারেন।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মনোরঞ্জন ধর বলেন, ‘এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে কম ঘটে। আমার চাকরিজীবনে এরকম ঘটনা প্রথম দেখলাম। হরমনের কারণে এমন হয়। অক্সিটোসিন বা অন্য হরমোন বেড়ে গেলে বকনা দুধ দিতে পারে।’
এইচ এম কামাল/এসএমএম/এএসএম