হাটে হাটে হাসিল ‘সন্ত্রাস’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ২০ জুলাই ২০২১
ফাইল ছবি

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের হাসিল সন্ত্রাসে মেতে উঠেছেন বগুড়ার বিভিন্ন হাটের ইজারাদার। প্রায় প্রতিটি হাটে হাসিল (খাজনা) নিয়ে পশু কিনতে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে বাদানুবাদ হচ্ছে। কোনো কোনো হাটে আবার ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের কাছে থেকেই নেয়া হচ্ছে হাসিল। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগিদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তে জমে উঠছে বগুড়ার পশুর হাট। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে হাটে প্রচুর জনসমাগম হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এবার গরুর দামও বেশি। সেই সঙ্গে জেলার প্রায় সব হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ ক্রেতাদের। কোনো কোনো হাটে হাসিল আদায়ে কর্মী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বগুড়া শহর ও শহরতলিসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় কোরবানির পশুর বড় হাট বসে। সদর, দুপচাঁচিয়া, শিবগঞ্জ, গাবতলী ও শাজাহানপুরে এ রকম বড় হাটের সংখ্যা প্রায় ১৫টি। এর বাইরেও অনেক পশুর হাট রয়েছে। বড় হাটগুলোর মধ্যে মহাস্থান, ধাপেরহাট, সুলতানগঞ্জ ও সাবগ্রাম অন্যতম। তবে কোরবানি উপলক্ষে অনেক স্থানে মৌসুমি হাট বসানো হয়। সে হিসাবে জেলায় পশুর হাট বসেছে ৫৭টি।

গত বুধবার একাধিক হাট ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কোনো হাটেই টানানো হয়নি হাসিল আদায়ের তালিকা। মহাস্থান হাটে গরু কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য গরুর দাম করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যাপারীরা প্রচুর গরু কিনছেন। তাই বাজার একটু চড়া। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো হাসিল সন্ত্রাস। সেখানে গরু প্রতি এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। ছাগলের জন্য নির্ধারিত একশ টাকার স্থলে নেয়া হয়েছে পাঁচশ টাকা।

সাবগ্রাম, ধাপেরহাট ঘুরে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসনের নির্ধারণ করা টোলের কোনো তালিকা নেই। উল্টো গরুপ্রতি এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা এবং ছাগলপ্রতি পাঁচশ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, এ বছর জেলার প্রতিটি পশুর হাটে গরু-মহিষ প্রতি ৫০ হাজার টাকার উপরে হলে সর্বোচ্চ চারশ এবং ৫০ হাজারের নীচে হলে সর্বোচ্চ তিনশ টাকা করে খাজনা আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে। আর ছাগল-ভেড়া প্রতি একশ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেই সঙ্গে প্রতিটি হাটে টোলের টাকা উল্লেখ করে তালিকা টাঙানোর সরকারি নির্দেশ রয়েছে। তবে কোনো হাটেই এ তালিকা টাঙানো হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।

jagonews24

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে চালানো চাঁদমুহা হাটেও চারশর স্থলে আটশ টাকা করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এ হাটটি পরিচালনা করছে একটি অস্থায়ী কমিটি। তারা এ অনৈতিক কাজে জড়িত থাকতে পারে।

একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, শহরের ভেতরে সুলতানগঞ্জ হাটে টোল আদায়ের জন্য কর্মী বাহিনী নিয়োগ দিয়েছেন ইজারাদার। তারা জোর করে দুই থেকে তিনগুণ বেশি টোল আদায় করছে। জানতে চাইলে এ হাটের ইজারাদার সাজু মিয়া কোনো কথা বলতে চাননি।

মহাস্থান হাটে গরুপ্রতি ১০০০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। খাজনা কিছুটা বেশি নেয়ার কথা স্বীকার করে হাটের ইজারাদার রাগিবুল আহসান রিপু বলেন, ‘ঈদের কারণে অতিরিক্ত আদায়কারী এবং হাট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বেশ কিছু লোকবল রাখতে হয়েছে। এছাড়া হাটের বার্ষিক ডাকে টাকার অংকও বেড়েছে দ্বিগুন। আগে এই হাট সাড়ে তিন কোটি ছিল। এখন সেটির ইজারা মূল্য ভ্যাটসহ সাড়ে সাত কোটি।

তিনি আরও বলেন, এবার গরু প্রতি ক্রেতার কাছে থেকে আটশ এবং বিক্রেতার কাছে থেকে দুইশ করে নেয়া হচ্ছে। আর ছাগলের জন্য নেয়া হচ্ছে চারশ।

শহরের অভ্যন্তরে সাবগ্রাম ও কালিতলা হটের অবস্থা সবচেয়ে করুন। এ হাটে গরু কিনে ক্রেতারা জানান সেখানে ইচ্ছে মতো একহাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল নেয়া হচ্ছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো হাসিলের যে স্লিপ দিচ্ছে তাতে শুধু গরুর মূল্য লেখা রয়েছে। হাসিলের অংক লেখা নেই। কোনো ক্রেতা এ রশিদ নিতে না চাইলে হুমকি ধামকি দিয়ে হাট থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরায় ভূঞা বলেন, ‘ক্রেতা কিংবা বিক্রেতাদের হয়রানির যে কোনো অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে যে কেউ এ ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘হাটে অতিরিক্ত টোল আদায় রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা চেষ্টা করছেন সরকারি নির্দেশনা মেনে হাট পরিচালনা করার। অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ কেউ করেনি বলে জানান তিনি।

এএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]