শেষ দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হতাশ গরু বিক্রেতারা, সন্তুষ্ট ক্রেতারা
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সামর্থ্যবানরা কোরবানির শেষ প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। অধিকাংশই কোরবানির পশু ক্রয় করে ফেলেছেন। যাদের পশু কেনার বাকি তারাও শেষদিনের হাটে ছুটছেন।
কোরবানি পশুর হাটের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ইজারা দেয়া ভাদুঘর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল হাটে গিয়ে দেখা যায়, শহরের প্রধান হাট ভাদুঘর গরুর বাজারে ছিল পশুতে পরিপূর্ণ। কিন্তু সেই অনুযায়ী হাটে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। তাই পশু বিক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। অনেকে তুলনামূলক কম মূল্যে বিক্রয় করে দিচ্ছেন গরু। আবার অনেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন খামারে। তবে চাহিদা অনুযায়ী গরু ক্রয় করতে পারায় খুশি ক্রেতারা।
হাটে গরু বিক্রয় করতে আসা খামারি মুকিত রহমান বলেন, ‘বাজারের অবস্থা অনেকটা শোচনীয়। ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। গরুর সঠিক মূল্য ক্রেতারা বলছেন না। আমিও কিছু গরু এনেছিলাম কিন্তু লাভের মুখ দেখতে পারিনি। লোকসানের মধ্যে আছি।’

হাবিবুর রহমান নামের আরেক খামারি বলেন, ‘এখন গরু বিক্রির চেয়ে বিষ খেয়ে মরে যাওয়া ভালো। আজকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকার গরু বলে ৮০ হাজার টাকা। বাজারে যে পরিমাণ গরু উঠেছে। ব্যাপারীদের রাস্তায় বসে কাঁদতে হবে। ১৪০টি গরু ছিল, এখন বিক্রয়ের আরও ১০টি বাকি আছে। কিন্তু যে দামে কিনেছি, তাও আজ কেউ বলছে না।’
নরসিংদী থেকে গরু নিয়ে আসা ওয়াসিম আকরাম নামের এক ব্যাপারী বলেন, ‘আমি ২২টি গরু নিয়ে এই বাজারে এসেছিলাম। এরমধ্যে ১১টি গরু বিক্রি করেছি। কিন্তু বাকি ১১টি গরুর সঠিক মূল্য কেউ বলছে না। ভৈরব বাজারেও প্রতিটি গরু ৫লাখ করে দাম বলেছে, অথচ এখানে ৪ লাখের বেশি কেউ দাম বলছে না।’

এছাড়া গরু মহিষের তুলনায় ক্রেতা বিক্রেতায় জমজমাট খাসি-ছাগলের হাট।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুজ্জামান বলেন, ‘গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এই বছর কোরবানি পশুর চাহিদা এক লাখ ৬৩ হাজার। কিন্তু এ বছর এই জেলায় পশু রয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার। জেলায় চাহিদার চেয়ে ১৪ হাজার পশু বেশি মজুত ছিল। অগ্রিম অনেকেই অনলাইনে ও খামারে গিয়ে সরাসরি পশু ক্রয় করে ফেলেছিলেন। অনেক খামারে কিছুটা বেশি লাভের আশায় তাদের পশু বাজারে নিয়ে এসেছিলেন।’
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/এমএস