কাজীরহাট ফেরিঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর ভিড়
ঈদ শেষে পাবনার এবং আশপাশের এলাকার মানুষ নৌপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এতে করে ফেরিতে যাত্রীদের ভিড় লেগেছে। ফেরির সংখ্যা কম হওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) বিকেলে কাজীরহাট ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরি পারাপারের আশায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন মানুষ। এদিকে ফেরি ঘাটের বেশ আগেই পুলিশের ব্যারিকেড থাকায় যাত্রীদের হেঁটে ঘাটে আসতে হচ্ছে।
ঘাটে অপেক্ষারত বেড়ার কৈটোলা গ্রামের বাবুল হোসেন জানান, তার অফিসে ছুটি থাকলেও লকডাউনের জন্য তিনি আগেই ঢাকা চলে যাচ্ছেন।

জেসমিন নামের এক নারী শ্রমিক জানান, অফিস তাকে সাতদিন ছুটি দিয়েছে। কিন্তু লকডাউনের জন্য তিনি আগেই যাচ্ছেন।
সুজানগরের খলিলপুর গ্রামের সুমন মিয়া জানান, লকডাইনে তার অফিস বন্ধ থাকবে। তবে যেকোনো সময় জরুরি অফিসে যেতে হতে পারে। এজন্য তিনি আগেই ঢাকা যাচ্ছেন।
পাবনা জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল আহসান খান রেওন জানান, শুক্রবার সকাল থেকে সারাদেশে ঢাকার সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে শুক্রবার থেকে আর কোনো গাড়ি চলবে না।
পাবনা মোটর মালিক গ্রুপের অফিস সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার আবার লকডাউন ঘোষণা করেছে। তাই সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোনো গাড়ি চলবে না।
কাজীরহাট ঘাটের টিকেট বিক্রেতা পল্লেক হোসেন জানান, আগামীকাল লকডাউন হওয়ায় নৌপথে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এজন্য টিকিট নিতে যাত্রীদের ভিড় ও হুড়াহুড়ি হচ্ছে।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জানান, আইনশৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি দেখতে তাদরে একটি টিম এবং নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম দিনরাত কাজ করে চলেছে। যানজট কমাতে তারা চেকপোস্ট স্থাপন করেছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ম্যানেজার (কাজীরহাট) মাহবুব হোসেন বলেন, কাজীরহাট-আরিচা নৌ রুটে বৃহস্পতিবার তিনটি ফেরি চলাচল করছে। একটি ফেরির সংস্কার কাজের জন্য চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পাবনা পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খাঁন জানান, পাবনায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। ফেরিঘাটে সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দরকার। সেখানেও জেলা পুলিশ টহলরত আছে।
পাবনার নবাগত জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল বলেন, সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সবাইকে যার যার জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে।
আমিন ইসলাম/জেডএইচ/