বৃষ্টিতে ভিজে অসহায় রঞ্জনের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে গেলেন ইউএনও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কলাবাড়ি ইউনিয়নের বুরুয়া গ্রামের বাসিন্দা শান্তিরঞ্জন বিশ্বাস। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি নানা রোগে আক্রান্ত। তার এক ছেলে প্রতিবন্ধী। সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই। পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস তার।

বিষয়টি জানতে পেরে বৃষ্টির উপেক্ষা করে শান্তিরঞ্জনের বাড়িতে ছুটে যান গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌস ওয়াহিদ।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) বিকেলে তার খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন ইউএনও। একইসঙ্গে তাকে একটি সরকারি ঘরও নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান, কলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা তার সঙ্গে ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি অসহায় শান্তিরঞ্জন বিশ্বাসের পরিবারকে নিয়ে জ্ঞানের আলো পাঠাগার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়। এই পোস্ট দেখে ইউএনও ফেরদৌস ওয়াহিদ বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হন অসহায় শান্তিরঞ্জন বিশ্বাসের বাড়ি। এ সময় সরকারি অনুদানে তাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

শান্তিরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘বৃষ্টিতে ভিজে ইউএনও আমার বাড়িতে চাল, ডাল, তেলসহ নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসেন। তিনি আমাকে একটি ঘর দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে আমরা যে ঘরে বসবাস করছি সেই ঘরে একটু বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। অনেক কষ্টে আমরা এ ঘরে বসবাস করছি। তিনি যদি একটি নতুন ঘর দেন তাহলে আমাদের বসবাসের কষ্ট আর থাকবে না।’

কলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বলেন, ‘একটি অসহায় পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দিতে বৃষ্টিতে ভিজে একজন ইউএনও যেভাবে ছুটে এসেছেন তা সত্যিই বিরল। এ মহানুভবতার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

ইউএনও ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘ফেসবুকে দেখতে পেয়ে আমি শান্তিরঞ্জন বিশ্বাসের বাড়ি যাই। এই পরিবারে কিছু সরকারি সুযোগ সুবিধা চলমান। এদের একটি বসতঘর প্রয়োজন। আমি শিগগিরই তাদের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করব।’

মেহেদী হাসান/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]