বাদীপক্ষের হামলায় হত্যা মামলার আসামি নিহত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১০:০৫ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১

নেত্রকোনার মদনে আব্দুল গণি বিচু (৫০) নামের হত্যা মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বাদীপক্ষের লোকজন।

শনিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার তিয়শ্রী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল গণি বিচু উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বালালী গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় বালালী গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে ধনাই (৩২), একই গ্রামের সঞ্জু মিয়ার ছেলে আশাদুল (২৫) ও জবশেদ মিয়ার ছেলে রফিকুলকে (২৫) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বাদীপক্ষের লোকজন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলার আসামি আব্দুল গণি বিচু আদালত থেকে জামিন নিয়ে নায়েকপুর ইউনিয়নের মাখনা গ্রামের আত্মীয় বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। শনিবার বিকেলে সাপ্তাহিক হাটের দিন তিনি তিয়শ্রী বাজারে আসেন। এ সময় বাজারের আওয়াল মিয়ার দোকানে সিঙ্গারা-পুরি খেতে বসলে বাদীপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা করেন।

এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। স্থানীয় লোকজন হামলাকারী তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এ খবর লিখা পর্যন্ত লাশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারস (খালিয়াজুরী সার্কেল) রাজন কুমার দাস বলেন, ‘বাদীপক্ষের হামলায় আব্দুল গণি বিচু নামের এক হত্যা মামলার আসামি নিহত হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে আছি। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা মর্গে পাঠানো হবে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে ২০২০ সালের ৮ জুন বালালী গ্রামের ইউপি সদস্য রিয়াজ উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালান আব্দুল গণি বিচু মিয়ার লোকজন। হামলায় রিয়াজ উদ্দিনের বৃদ্ধা মা আহত হন। ওই বছরের ১৩ জুন আহত বৃদ্ধাকে হাসপাতালে দেখতে গেলে বালালী গ্রামের সবুজ তালুকদারের ছেলে সুমনকে (২৫) হাসপাতালে কুপিয়ে আহত করে আব্দুল গণি বিচুর লোকজন। পরে ওই দিন বিকেলেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সুমন মারা যান।

ওই রাতেই সুমনের ভাই পলাশ মিয়া বাদী হয়ে আব্দুল গণি বিচুকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আব্দুল গণি বিচু আদালত থেকে জামিন নিয়ে আত্মীয় বাড়ি মাখনা গ্রামে বসবাস করছিলেন।

এইচ এম কামাল/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]