ওসির সহযোগিতায় পরিবার ফিরে পেল মিম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:৩২ এএম, ২৬ জুলাই ২০২১

আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন মিম আক্তার (২০)। মাকে হারিয়ে কাঁদতে শুরু করে তার কোলের শিশু। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও যখন সন্ধান মিলছিল না তখন পরিবার ভেবেই নিয়েছিল মিম আর বেঁচে নেই। কিন্তু মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মিম ঘুরছিলেন রাস্তায় রাস্তায়।

অবশেষে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবীরের সহযোগিতায় উদ্ধার হন মিম। ঠিকানা খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে স্বজনদের কাছে।

মিম আক্তার শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার বড় নওগাঁও গ্রামের মিলন বেপারীর মেয়ে। রোববার (২৫ জুলাই) বিকেলে মিমকে তার দুই মামার কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবীর বলেন, শনিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয় মহাদেবপুর বাজারে মেয়েটিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন এলাকাবাসী। তারা তার পরিচয় জানতে চাইলে এলোমেলো কথাবার্তা বলেন। এতে স্থানীয়রা মেয়েটিকে রোহিঙ্গা মনে করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মেয়েটির সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি নিজের নাম মিম এবং ঠিকানা শুধুমাত্র শরীয়তপুরের ডামুড্যা পর্যন্ত বলতে পারেন।

এর সূত্র ধরেই মিমের পরিবারের সন্ধান শুরু করে পুলিশ। শরীয়তপুর থানা পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জায়গায় টেলিফোনে যোগাযোগ করে রাতে মিমের স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায়।

রোববার বিকেলে মিমের দুই মামা অন্তর আখন্দ ও সোহাগের কাছে তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়েই আড়াই মাস পর পরিবার ফিরে পেল মিম আক্তার।

ভাগ্নিকে ফিরে পাওয়ায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিমের মামা। তিনি বলেন, তিনি (ওসি) বিষয়টি আন্তরিকতা ও মানবিক দৃষ্টিতে না দেখলে হয়তো ভাগ্নি ঠিকানা খুঁজে পেত না। রাস্তায় রাস্তায়ই ঘুরতে হতো তাকে।

মিম আক্তারের স্বামী রনি মুন্সি বলেন, গত রোজার মধ্যে হঠাৎ বাবার বাড়ি থেকে মিম নিখোঁজ হয়। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় তাকে খোঁজা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। পুলিশকেও জানানো হয়। কিন্তু কিছুতেই তার সন্ধান মিলছিল না।ভেবেছিলাম হয়তো সে আর বেঁচে নেই। এখন তাকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সবাই খুশি হয়েছে।

ওসি ফিরোজ কবীর বলেন, মিম আড়াই মাস পর তার স্বজনদের ফিরে পেল। তাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।

বি.এম খোরশেদ/এসআর

 

 

 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]