শাশুড়ির মামলায় সাড়ে ৩ মাস পর পুত্রবধূর লাশ উত্তোলন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৬:০৯ এএম, ২৬ জুলাই ২০২১

নোয়াখালীর সুধারামে (সদর) শাশুড়ির দায়ের করা হত্যা মামলায় দাফনের সাড়ে তিন মাস পর নিহত পুত্রবধূ মারজাহান বেগমের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

রোববার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রামের জগবন্ধুর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি তোলা হয়। গত ৩ এপ্রিল মারজাহান বেগম মারা যান।

মরদেহ উত্তোলনের সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে সাড়ে তিন মাস পর গৃহবধূ মারজাহান বেগমের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরনবী জানান, সৎ ছেলে মো. সোহাগের স্ত্রী মারজাহান বেগমকে হত্যার অভিযোগে গত ১৬ জুন নোয়াখালীর আমলি আদালতে স্বামী আবদুল খালেক, সৎ ছেলে মো. সোহাগ ও রাজু এবং সৎ মেয়ের স্বামী জামাল উদ্দিনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের শাশুড়ি রহিমা বেগম। পরে ৬ জুলাই সৎ ছেলে সোহাগকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ।

রহিমা বেগমের দাবি, হত্যার বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করায় তাকে দুই মাসের বেশি সময় ঘরে আটকে রাখেন আসামিরা। পরে কৌশলে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে আদালতে মামলাটি করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, স্বামী, দুই সৎ ছেলে এবং পুত্রবধূ মারজাহান ও তার তিন শিশু সন্তান নিয়ে সদর উপজেলার উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রামের রহিমা বেগমের সংসার। হত্যার কয়েক মাস আগে সোহাগের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে স্ত্রী মারজাহানের সঙ্গে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এ নিয়ে মারজাহানকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতনসহ মেরে ফেলার হুমকি দিতেন সোহাগ।

গত ৩ এপ্রিল দুপুরে পুত্রবধূ মারজাহানকে বাড়িতে রেখে বাবার বাড়ি যান রহিমা। মারজাহান বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে রাত ২টায় মোবাইল ফোনে জানান স্বামী আবদুল খালেক। পরদিন সকালে বাড়িতে ফিরে তিনি জানতে পারেন সোহাগের পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় আসামিরা মারজাহানকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর

 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]