চাকরি বাঁচাতে ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঢাকামুখী হচ্ছে মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:২২ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২১

গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক রহিমা বেগম। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর গিয়েছিলেন। চলমান লকডাউনের মধ্যেও তাকে ফিরতে হচ্ছে কর্মস্থলে। কারণ সরকার ১৪ দিনের লকডাউন দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ছুটি দিয়েছে মাত্র সাতদিনের। ছুটি শেষ হওয়ায় পথের ভোগান্তি মাথায় নিয়েই গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন রহিমা।

পোশাক শ্রমিক মাহফুজুর রহমানেরও ছুটি শেষ। চুয়াডাঙ্গা থেকে ছোট যানবাহনে ভেঙে ভেঙে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছাতে তাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেল ভাড়া করে রওনা হন গন্তব্যে।

মাহফুজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘাটে এসে যখন যানবাহন পাচ্ছিলাম না তখনো অফিসে ফোন করেছিলাম। অফিস বলল, আসবেন কি আসবেন না এটা আপনার ব্যাপার। বুঝলাম না গেলে চাকরি থাকবে না। তাই বাধ্য হয়েই যাচ্ছি।’

jagonews24

সোমবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে রহিমা বেগম ও মাহফুজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে। সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা সড়কে বের হওয়ার কারণ হিসেবে তারা ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার কথাই বলছেন।

সরেজমিন ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, লকডাউনের চতুর্থ দিনেও সকাল থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ রয়েছে। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতেই ছিল যাত্রীর চাপ। তাদের বেশিরভাগই ঢাকা, সাভার ও গাজীপুর এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিক।

jagonews24

ফেরি পার হওয়ার পর যাত্রীরা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও ছোট ট্রাকে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। গণপরিবহন না থাকার সুযোগে এসব যানবাহনগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক ভাড়া আদায় করছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাটুরিয়া ৪ নম্বর ফেরিঘাট থেকে একটি মিনিট্রাক যাত্রীবোঝাই করে গাবতলীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে মহাসড়কে চেকপোস্ট থাকায় এসব যানবাহন বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করছে।

jagonews24

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান জানান, লকডাউনের মধ্যে শুধুমাত্র জরুরি যানবাহন পারাপার করার জন্য ছোট-বড় ৮টি ফেরি চলাচল করছে। কিন্তু জরুরি যানের সঙ্গে অনেক সময় যাত্রীও ফেরিতে উঠে পড়ছেন। তারাও নানা জরুরি কাজের কথা বলছেন। মানবিক কারণে তাদেরকে ফেরি থেকে নামিয়ে দেয়া সম্ভব হয় না। তবে সড়কে কড়াকড়ি থাকলে ফেরিঘাটে যাত্রীর চাপ কমে যাবে।

বি.এম খোরশেদ/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]