নদীর পাড়ে ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ঠ জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ৩০ জুলাই ২০২১

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর আরপিন নগর এলাকায় সুরমা নদীর পাড় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এ কারণে এলাকাবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

নদীর তীরে মানুষজন ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। বাসাবাড়ির ময়লা, ডাবের খোসা, পলিথিন, পচা-বাসী খাবারের উচ্ছিষ্ট সবই ফেলা হচ্ছে ওই স্থানে। এতে মশা-মাছির জন্ম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসীকে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হয় ময়লা-আবর্জনার স্তূপের পাশ দিয়ে। দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচার জন্য নাকেমুখে কাপড় চেপে ধরতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর আরপিন নগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাহেব বাড়িঘাটের সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার কোনো ডাস্টবিন নেই। ওই এলাকার মানুষজন ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদীর পাড়ে। ফলে এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।

এতে আরপিন নগর ও তেঘরিয়া এলাকার মানুষ সাহেববাড়ি ঘাটে এসে গোসল করতে অসুবিধার সম্মুখীন হন। ময়লা আবর্জনায় দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে গোসল সারতে হয় তাদের। আবার ময়লা-আবর্জনা পানিতে মিশে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি ও পরিবেশ।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলাউর মিয়া বলেন, আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা থেকে এলাকায় জীবাণু ছড়াচ্ছে। মশা-মাছি পোকামাকড় জন্ম নিচ্ছে।

river2.jpg

আরমান আহমেদ বলেন, প্রতিদিন গোসল করার জন্য ঘাটে আসি। ঘাটের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ রয়েছে। উৎকট দুর্গন্ধ থাকার কারণে কোনো রকম কষ্ট করে গোসল শেষ করে আসি। এ রকম চলতে থাকলে এলাকার মানুষের চরম ক্ষতি হবে। দিন দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বাড়ছে। এর মধ্যে যদি এ রকম অবস্থা থাকে তাহলে মানুষ আরও নানা রোগে আক্রান্ত হবে।

ফরিদ মিয়া বলেন, এত সুন্দর ফুটপাতের রাস্তা করা হয়েছে। দেখার মতো একটা পরিবেশ হয়েছে সাহেববাড়ি ঘাট। কিন্তু এই ময়লার ভাগারের জন্য পরিবেশটাই নষ্ট হয়ে গেছে। বিকেলে সময় কাটাতে প্রতিদিন এই ঘাটে আসি। রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ আর দুর্গন্ধে মনটাই খারাপ হয়ে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষ একটু নজর দিলেই এলাকা আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে যাবে।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবাবিল নূর বলেন, সুরমা নদী ঘেঁষা উত্তর আরপিন নগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাহেববাড়ি ঘাটের সড়ক অনেক বড় করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন ফুটপাতের সড়কও করা হয়েছে। হাছনরাজার বাড়ি দেখতে অনেক মানুষ আসে। সাহেববাড়ি ঘাটের মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিকেলে আমিও মাঝে মধ্যে গিয়ে বসি। কিছুদিন পরপর পৌরসভার ট্রাক দিয়ে ময়লা তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এক্ষেত্রে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

লিপসন আহমেদ/এমএসএম/এমআরএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]