‘পরকীয়ার বলি’ : ১১ দিন পর স্বামীর মরদেহ উত্তোলন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২১

লালমনিরহাটে স্ত্রীর ‘পরকীয়ার বলি’ আব্দুল জলিলের মরদেহ ১১ দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উঠানো হয়েছে।

রোববার (১ আগস্ট) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহানের উপস্থিতিতে পৌরসভার সাপটানা কবরস্থান থেকে মরদেহ উঠানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল, সদর থানার ওসি শাহা আলম, হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ) মাহমুদুন্নবীসহ মামলার বাদীর পরিবারের লোকজন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরিদ আল সোহান জানান, আদালতের নির্দেশে জলিলের মরদেহ কবর থেকে উঠিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশ জানায়, জলিলের কুলখানি শেষে তার বড় ভাই আব্দুর রশিদ মমিনা বেগমকে (জলিলের স্ত্রী)
গ্রামের বাড়ি যেতে বলেন। কিন্তু মমিনা জানান, তিনি আর কোনোদিন বাড়ি যাবেন না এবং এখানে বিয়ে করবেন। এতে তার সন্দেহ হয়।

এরপর জলিলকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে ২৫ জুলাই পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন আব্দুর রশিদ।

অভিযোগের পর তদন্তে নামে পুলিশ। সহকারী পুলিশ সুপার মারুফা জামালের নেতৃত্ব পুলিশের একটি টিম চার মাসের কল লিস্ট যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে মমিনা বেগমসহ চারজনকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মমিনা ও পল্লী চিকিৎসক গোলাম রাব্বানী হত্যার দায় স্বীকার করলে বাকি দুইজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর মমিনা ও গোলাম রাব্বানীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, পরকীয়ার কারণেই আব্দুল জলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলে মমিনা বেগম ও গোলাম রব্বানী স্বীকার করেছেন।

পুলিশ সূত্র আরও জানায়, ঘটনার দিন ২২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) গোলাম রব্বানী ও আব্দুল জলিল এক সঙ্গে ছিলেন। ওইদিন রাতে গোলাম রব্বানী কৌশলে জলিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর বাড়ি এসে জলিল ঘুমিয়ে পড়লে তাকে বালিশচাপায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হলে ভোরের দিকে মমিনা বেগম চিৎকার শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে জলিলের নাকে-মুখে রক্ত বের হতে দেখেন। পরে পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী মৃত্যু নিশ্চিত করে তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন করেন।

জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]