ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৮৫ মণ চাল আত্মসাতের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২১

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হকের বিরুদ্ধে ১৯ জন হতদরিদ্র নারীর নামে বরাদ্দ ভিজিডি কার্ডের চাল ছয় মাস ধরে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার (১ আগস্ট) দুপুরে ১৯ জন দুস্থ নারী তাদের নামের কার্ড ও বরাদ্দের চালের দাবিতে তার নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি ২০২১ ও ২০২২ অর্থবছরে দুই বছর মেয়াদে ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি) নতুন চক্রের উপকারভোগীদের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এবার অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন নেয়া হয়। এতে ইউনিয়নে চলতি চক্রে ৩৩৬টি কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়। যার মাধ্যমে ভিজিডি কার্ডধারী উপকারভোগী নারীদের মাসিক ৩০ কেজি প্যাকেটজাত খাদ্য (চাল) সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এই চাল দেয়া শুরু হয়। কিন্তু তাদের নামে কার্ড থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি গোপন রেখে তাদের নামের জানুয়ারি থেকে জুন, এই ছয় মাসের ৩০ কেজি করে মোট তিন হাজার ৪২০ কেজি (৮৫ মণেরও বেশি) চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন। বিষয়টি জানার পর তারা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরে গিয়ে নামের তালিকা সংগ্রহ করেন। এতে দেখা যায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর কার্ডধারী সালমা খাতুন, ৩৮ নম্বর কার্ডধারী আছিয়া খাতুন, ৪৪ নম্বর কার্ডধারী হামিদা বেগম, ৬০ নম্বর কার্ডধারী শাহিদা বেগম, ২৩ নম্বর কার্ডধারী তহমিনা খাতুন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৪ নম্বর কার্ডধারী ফৌজিলা বেগম, ৬১ নম্বর কার্ডধারী মাজেদা খাতুন, ১১ নম্বর কার্ডধারী শিল্পী আক্তার, ৫২ নম্বর কার্ডধারী মোরশেদা বেগম, ২২ নম্বর কার্ডধারী আতোয়ারা বেগম, ১০ নম্বর কার্ডধারী মোছা. পারভীন, ৩৭ নম্বর কার্ডধারী ময়না বেগম, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ নম্বর কার্ডধারী রোকেয়া বেগম, ২ নম্বর কার্ডধারী লাকি বেগম, ১৯ নম্বর কার্ডধারী আছিয়া বেগম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ নম্বর কার্ডধারী পারভীন বেগম, ২৮ নম্বর কার্ডধারী আছিয়া বেগম, ১৩ নম্বর কার্ডধারী রশিদা বেগম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২১ নম্বর কার্ডধারী মোছা. মাজেদার নামে কার্ড বরাদ্দ রয়েছে।

তারা তালিকা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হকের কাছে গেলে তাদের নামে কার্ড বরাদ্দ নেই বলে জানান। পরে তারা এ বিষয়ে লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন ও চেয়ারম্যান ময়নুল হকের নামে ডিমলা থানায় জিডি করেন।

Rice-(2).jpg

ডিমলা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা পূরবী রানী রায় বলেন, অভিযোগটি আমাদের কাছে এসেছে। তবে যার নামে কার্ড বরাদ্দ হয়েছে, নীতিমালা অনুসারে তিনিই চাল পাবেন। জনপ্রতিনিধির কাছে কার্ড রাখার কোনো নিয়ম নেই। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে চাল বিতরণের পর তা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মাস্টার রোল (বিতরণ বহি) দেয়ার নিয়ম থাকলে টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান তা জমা দেননি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে টেপাখড়িবাড়ী ইউপির এক সদস্য (মেম্বার) বলেন, ৩৩৬টি ভিজিডি কার্ডধারীর মধ্যে ৩১ নাম চেয়ারম্যান পরিবর্তন করে বিতরণ করায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

ভিজিডি কার্ডধারীদের অভিযোগ, টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক ও তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণ না করে চাল তুলে আত্মসাৎ করেছেন।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ময়না আক্তার (কার্ড নম্বর-৩৭) জানান, ভিজিডির চাল পেতে অনলাইনে আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই শেষে ছবি তোলার জন্য টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তথ্যকেন্দ্রে গেলে ছবি তোলার জন্য ৫০০ টাকা দিতে হয়। পরবর্তীতে তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান আরও পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে না পারায় আমাকে ভিজিডির কার্ড দেয়া হয়নি। গত ছয় মাস ধরে ওই চাল মিজানুর রহমান উত্তোলন করে আসছেন।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের হামিদা বেগম (কার্ড নম্বর ৪৪) বলেন, ছবি তোলার জন্য মিজানকে ৫৫০ টাকা দেয়ার পরও কার্ডের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরও কার্ড পাইনি। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রশিদা বেগম (কার্ড নম্বর ১৩) বলেন, আমার কার্ড হলেও চাল দেয়া হয়নি। আমার চাল তুলে নেয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, একটি কার্ডও রাখা হয়নি। আর সব কার্ডধারীর মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অভিযোগটির কোনো সত্যতা নেই।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ১৯ জন নারী থানায় একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাহেদুল ইসলাম/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]