দুধ কিনতে না পারায় সন্তান দত্তক দিতে চান মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ০৪ আগস্ট ২০২১

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের গুয়াবাড়ীঘাট খুমারিপাড়া গ্রামের আফতাব শেখ ও জরিনা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সাবিনা তৃতীয় সন্তান। সাবিনা বেগমের তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছিল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেবীপুর গ্রামের ট্রাকচালকের সহকারী নজরুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের আড়াই বছর পর সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন স্বামী নজরুল ইসলাম।

দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় চলে আসেন বাবার বাড়ি। এখন তার ঘরে দেড় বছরের সুমাইয়া আক্তার এবং এক মাস বয়সের মরিয়ম নামের দুই মেয়েসন্তান রয়েছে।

অর্থাভাবে ঠিকমতো খেতেও পারেন না। হাতে দুধ কেনার টাকাও নেই। চক্ষু লজ্জায় কারও কাছে হাতও পাতেন না। কখনো মনে করেন খাবারের জন্য একটি সন্তানকে দত্তক দেবেন। তবে মায়ার টানে তাও করতে পারছেন না।

এক মাস আগে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেন সাবিনা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে বাচ্চাটাকে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। সবার কাছে আমার অনুরোধ, ‘বাচ্চাটাকে বাঁচান’।

jagonews24

সাবিনার বাবা আফতাব শেখ বলেন, ‘আমি ২৭ বছর রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। করোনায় ইনকাম নেই। খেয়ে না খেয়ে আমাদের দিন কাটছে। মেয়ের এই অবস্থায় আমি বাবা হয়েও কিছু করতে পারছি না।’

জয়পুরহাট সদর উপজেলার গুয়াবাড়ীঘাট এলাকার বাসিন্দা রাসেল বাবু, ফিরোজ হোসেন ও আব্দুল হান্নান বাবু বলেন, সাবিনার বাবা আফতাব শেখ রিকশা চালাতেন। এখন বয়সের ভারে ঠিকমতো রিকশা চালানো ও কোনো কাজকর্মই করতে পারেন না। ভিক্ষা করেই এখন সংসার চালান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বম্বু ইউনিয়নের প্যানেল মেয়র ও স্থানীয় মেম্বার আব্দুল আওয়াল বাবুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত হোসেন জানান, সাবিনা বেগমের বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আর্থিকভাবে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

রাশেদুজ্জামান/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]