এক গ্রামের জন্য ৫ কোটি টাকার সেতু, ধসে পড়ছে সংযোগ সড়ক
নির্মাণের ছয় মাস না যেতেই কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নির্মিত চাঁন্দেরবাগ সেতুর সংযোগ সড়কের একপাশে ধস এবং আরেক পাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এটি সংস্কার করা না গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সময় নাঙ্গলকোট উপজেলা অবহেলিত গ্রাম ছিল চাঁন্দেরবাগ, যা উপজেলা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। গ্রামটি রায়কোট উত্তর ইউপির ডাকাতিয়া নদীর পূর্ব পাশে চরে অবস্থিত। ৫৫টি পরিবার বাস করে গ্রামটিতে। এখানে ছিল না বিদ্যুৎ, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। নৌকাই ছিল তাদের একমাত্র যাতায়েত ব্যবস্থা। এখানকার মানুষের পেশা ছিল নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা।
বিষয়টি পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে আ হ ম মুস্তফা কামাল (বর্তমান অর্থমন্ত্রী) ওই গ্রামে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, একটি মসজিদ ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করেন। সেই থেকে ধীরে ধীরে পাল্টে যায় চাঁন্দেরবাগ গ্রামের দৃশ্য। পরে তিনি অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর চাঁন্দেরবাগ গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য ডাকাতিয়া নদীর ওপর একটি সেতু বরাদ্দ দেন।

২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে শুরু হয় ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ। এটি নির্মাণ করতে ব্যয় করা হয়েছে ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সেতুটি নির্মাণ করে রানা বিল্ডার্স লিমিটেড, মেসার্স হাছান বিল্ডার্স ও মেসার্স জামান ট্রেডার্স (জেবি)। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।
উদ্বোধন করা না হলেও সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন ও মানুষ যাতায়াত করছে। ছয় মাস না যেতেই চলতি মাসের শুরুতে হঠাৎ করে সেতুর সংযোগ সড়কের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়। এরপর ধসে পড়ে সড়কের কিছু অংশ। ভেঙে পড়ছে সংযোগ সড়কের পাশে বসানো ব্লকও। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে সংযোগ সড়কের এ দশা হয়েছে।
চাঁদেরবাগ গ্রামে বাসিন্দা সাবউদ্দিন বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এখনি মেরামত করা না গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

মোহাম্মদ উল্লাহ নামের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কোনোমতে কাজ শেষ করে চলে যায়। ফলে ছয় মাস না যেতেই সেতুর সংযোগ সড়কে ধস দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান ট্রেডার্স (জেবি) ঠিকাদার লিটনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে সেতুটির সংযোগ সড়কের একটি অংশ ভেঙে পড়ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত করে দেবে।
জাহিদ পাটোয়ারী/এসজে/এমকেএইচ