প্রযুক্তি ব্যবহারে সফল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৭:৩৩ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০২১

প্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ। এর ফলে এই জেলায় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব ফাঁকির পথ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রযুক্তির কারণে প্রতি সেকেন্ডেই জানা যাচ্ছে ডিউটিরত অফিসারের অবস্থান ও গতিবিধি। শুধু তা ই নয়, পুলিশ সদস্যদের মুঠোফোনের ব্যাটারিতে চার্জ কতো শতাংশ রয়েছে সেটিও জানা যাচ্ছে। আর এসব সম্ভব হচ্ছে ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) অ্যাপের মাধ্যমে। আর এই অ্যাপটি মনিটরিং করেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়া লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড অ্যাপের মাধ্যমে জানুয়ারিতে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে জেলা পুলিশের অন্যান্য কার্যক্রমে প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়।

জেলা পুলিশের এই আধুনিকীকরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সোমবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন।

পুলিশ সুপার জানান, জিডি-মামলা রেকর্ড থেকে শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের সব কার্যক্রমই এখন প্রযুক্তিনির্ভর। গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের হিসাবও পুঙ্খানুপুঙ্খ হয়ে উঠেছে প্রযুক্তির স্পর্শে। সবকিছু মিলিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন আর পুলিশের ডিউটি ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) অ্যাপের মাধ্যমে জেলা পুলিশের ১ হাজার ৫০০ জনবল দিনে তিনবার হাজিরা নিশ্চিত করতে পারছেন। আগে যে হাজিরা সম্পন্ন করতে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এক ঘণ্টা সময় অপচয় করতে হতো, এই অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড সময় লাগছে। ডিউটি ফাঁকি, অনুপস্থিতির জন্য সাজাও ভোগ করতে হচ্ছে। হাজিরা কম হলে কেটে নেওয়া হচ্ছে বেতন। জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক থানার কার্যক্রম মনিটরিং হচ্ছে।

তিনি মনিটরে ডিজিটাল পুলিশিংয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, পুলিশ সদস্যদের ছুটির আবেদন নিয়েও দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না। এখন তারা সহজেই অ্যাপ ব্যবহার করে ছুটির আবেদন করতে পারছেন। এতে খুশি পুলিশ সদস্যরা। অন্যদিকে এই অ্যাপের সহায়তায় সহজেই মিলছে অনুপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যদের হিসাব। ছুটি, ট্রেনিং, মিশনে প্রেষণ, অন্য জেলায় ডাক, অসুস্থ, সাক্ষী দিতে কতজন জেলার বাইরে রয়েছেন তার হিসাবও রয়েছে অ্যাপের স্ক্রিনে।

আনিসুর রহমান আরও জানান, তদারককারী অফিসাররা যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে থানার কার্যক্রম তদারকি করতে পারছেন। দিতে পারছেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। টহল পার্টি কোথায় কী অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে তাও দেখা যাচ্ছে। জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে জেলার সব থানার সামগ্রিক কার্যক্রম ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। এজন্য প্রত্যেক থানার প্রবেশ গেট, ডিউটি অফিসার, সেরেস্তা, বেতার অপারেটরের বসার জায়গা, থানা হাজত করিডোর এবং থানা কম্পাউন্ডে আটটি করে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন কোনোরকম হয়রানিতে পড়ছেন কি-না, দালাল-তদবিরবাজরা ঘুরে বেড়াচ্ছে কি-না এবং থানা পুলিশ কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে কি-না, হাজতের অবস্থা- সবকিছু পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই অ্যাপের মাধ্যমে মামলা এন্ট্রি, আসামি সার্চ করা, সিডি লেখা, আসামি ফরোয়াডিং দেয়া, অনুসন্ধান স্লিপ পাঠানো, নোট ও চার্জশিট লেখার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে জানিয়ে একটি মামলার আদ্যোপান্ত পাওয়া যায় এখানে। এই ব্যবস্থার কারণে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম ও বিচার কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সিডিএমএস অ্যাপের মাধ্যমে জেলায় গত ৩১ মাসে ১০ হাজার ৩৪০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ৪ হাজার ৩৮৮টি, ২০২০ সালে ৪ হাজার ৩১টি এবং এ বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৯২১টি মামলা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) আবু সাঈদ, নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম, সরাইল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাহিদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।