বৈদ্যুতিক ফাঁদে হাতি হত্যা: ১২ জনের বিরুদ্ধে বনবিভাগের দুই মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:১২ এএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১

কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালংয়ে বৈদ্যুতিক ফাঁদে ফেলে বন্য হাতি হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মামলা দুটি করা হয়।

জমির মালিকসহ ১২ জনকে আসামি করে আদালত ও থানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করেছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন।

মামলা দুটিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা জমির মালিক নজির আহমদকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ।

jagonews24

মঙ্গলবার ভোররাতের কোনো একসময় বৈদ্যুতিক ফাঁদে ফেলে হাতিটি হত্যার পর সবার চোখ ফাঁকি দিতে হাতির মাথা, পাসহ শরীরের নানা অঙ্গ টুকরো টুকরো করে জমিতে পুঁতে ফেলে মালিক নজির আহমদ। মঙ্গলবার দুপুরে সেসব খন্ডিত অঙ্গগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগ।

এদিকে, জমির মালিক নজির আহমদ হাতি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার স্বীকারোক্তি মতে, ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃত হাতির আলামত সংগ্রহ করেছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

ধোয়াপালং রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘হাতিটিকে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে হত্যার পর নৃশংসভাবে খন্ড-বিখন্ড করা হয়। এঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। একটি মামলা করেছি আদালতে এবং আরেকটি থানায় রুজু করেছি।’

তিনি জানান, ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকার পাদদেশ ও আশপাশে জোত (খতিয়ানভুক্ত) জমি রয়েছে। এখানে চাষ করা ফসলে হাতির পাল হানা দেয়। ফসলে হাতির হানা রোধে অনেকে আইন বহির্ভূতভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতেন। গত বছরের শেষ দিকেও এভাবে একটি হাতি মারার পর বৈদ্যুতিক ফাঁদ না পাতার জন্য সচেতনতামুলক সভা করা হয়। সভার পর এলাকায় মাইকিংও করা।

সেসময় বলা হয়, হাতির পাল ফসল নষ্ট করলে আবেদনের ভিত্তিতে বনবিভাগ যথাযথভাবে ক্ষতিপূরণ দিবে। বন্যপ্রাণীর চলাচল রোধে এভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা বেআইনি। এর কঠিন শাস্তি রয়েছে। এরপরও বন্যপ্রাণী হত্যায় গোপন তত্পরতা করছে দুর্বৃত্তরা।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা বলেন, কক্সবাজারের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়বেষ্টিত। এখানে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এক হয়ে বসবাস ও চাষাবাদ করতে হয়। কিন্তু ফসলের ক্ষতি রোধে বন্যপ্রাণী হত্যার অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনা চরম নৃশংস। এতে জড়িতদের শাস্তি হলে অন্যরা এমন নৃশংস কাজ করতে ভয় পাবেন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ বলেন, দুর্বৃত্তরা হাতিটি হত্যার পর শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে মাটিচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সকাল হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে প্রশাসনকে অবহিত করে। ঘটনাস্থল গিয়ে হাতিটির খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। নিরীহ একটি প্রাণীকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা কোনোভাবেই মানা যায় না।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘হাতি হত্যার মামলায় আটক নজির আহমদসহ অন্য অভিযুক্তরা বনবিভাগের সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী। অন্যদের মতামতের ভিত্তিতে তাদের সেই তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পাহাড়ের এসব এলাকায় দেয়া বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্নকরণে ব্যবস্থা নিতে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।’

সায়ীদ আলমগীর/এএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।