সিনহা হত্যা: দ্বিতীয় দফায় একজনের সাক্ষ্য-জেরায় প্রথমদিন পার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার বিচারকার্যের দ্বিতীয় ধাপের চারদিনের সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথমদিন শেষ হয়েছে। মামলার তৃতীয় সাক্ষী মোহাম্মদ আলীকে ১৫ আসামির আইনজীবীরা পৃথকভাবে জেরা করায় সাত কর্মঘণ্টায় একজনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম।

তিনি বলেন, সকাল সোয়া ১০টার দিকে মামলার তৃতীয় সাক্ষী মোহাম্মদ আলীর মাধ্যমে দ্বিতীয় দফার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পৌনে ১০টার দিকে মামলার অন্যতম আসামি বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ ১৫ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এরমধ্যে হাজির করা হয় ১৩ জনকে।

ফরিদুল আলম আরও বলেন, প্রথম দিনে মাত্র একজনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা মামলার বিচারকার্য দীর্ঘসূত্রিতা করতেই জেরায় অহেতুক সময় ক্ষেপণ করছেন।

ওসি প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশ গুপ্ত বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণের বিষয়ে মিডিয়া ট্রায়াল করার বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছি। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মিডিয়ায় কোনো ধরনের বক্তব্য না দিতে সংশ্লিষ্ট সব আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের বরাত দিয়ে অ্যাডভোকেট বাপ্পী শর্মা বলেন, ২৩ আগস্ট শুরু হয়েছে মেজর সিনহা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম। সাক্ষ্যগ্রহণে আদালতের নির্ধারণ করা প্রথম তিনদিনের প্রথম দিন পুরো ও দ্বিতীয় দিনের অর্ধেক সময় মামলার বাদী নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে শুরু হয় সিনহার সফরসঙ্গী ও হত্যার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সিফাতের সাক্ষ্য। এ দুজনের সাক্ষ্য ও জেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিচারকার্যের প্রথম নির্ধারিত তিন দিন। ১৫ আসামিদের আইনজীবীরা সাক্ষীদের পৃথক জেরা করতে গিয়ে প্রথম দুজনকে দিয়েই তিনদিন অতিবাহিত হয়। ফলে বাকি ১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২৫ আগস্ট আদালত ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর টানা চারদিন পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর সিনহা হত্যার ঘটনায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম।

অভিযুক্ত আসামিদের মাঝে পুলিশের ৯ সদস্যরা হলেন- বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া ও কনস্টেবল সাগর দেব নাথ।

অপর আসামিরা হলেন-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও মো. আব্দুল্লাহ এবং টেকনাফের বাহারছড়ার মারিষবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশের করা মামলার সাক্ষী নুরুল আমিন, মো. নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

কারাগারে থাকা আসামিদের ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ওসি প্রদীপ, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এর আগে আসামিদের তিন দফায় ১২ থেকে ১৫ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]