১০ বছর ধরে কোমরে রশি বাঁধা শহীদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:২১ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

জন্মের এক বছর পর জ্বরে আক্রান্ত হয় শহীদ। এরপর থেকে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। শিশু বয়সে কোলে-পিঠে থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি স্বজনরা। ফলে পাঁচ বছর বয়স থেকে কোমরে রশি বেঁধে রাখতে হয়েছে তাকে।

শহীদের বর্তমান বয়স ১৫। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বালুগ্রাম দক্ষিণটোলা গ্ৰামের মো. টুটুলের ছেলে।

কথা হয় শহীদের মা মোসা. আয়েশা বেগমের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শহীদ ও শিফাত জমজ। শহীদের বয়স যখন এক বছর তখন জ্বর হয়েছিল। ভালো না হওয়ায় তাকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়। এরপর হঠাৎ মস্তিষ্কে বিকৃতি দেখা দেয়। তখন থেকেই তাকে এভাবে বেঁধে রাখতে হয়।

তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। থাকার ঘর নেই কীভাবে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাবো। তবুও শহীদের জন্য আমরা অনেক টাকা খরচ করেছি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে। আমার আরও দুটি ছেলে আছে। তারা স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করতে পারে। বাধ্য হয়ে শহীদকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়ে।

শহীদের বাবা টুটুল মিয়া জানান, ছেলেকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা যে কতোটা কষ্ট দেয় বলে বোঝানো যাবে না। কিন্তু কী করব? পাশের পুকুরে ডুবে বা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে বেঁধে রাখতে হয়।

chapai1

প্রতিবেশী আব্দুল মতিন জানান, শহীদের বাবা একজন ফেরিওয়ালা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে লবণ বিক্রি করেন। যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে ছেলের ওষুধ ও কোনো মতে পরিবার চালান তিনি।

গোমস্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সাইদুর রহমান জানান, নিয়মিত শহীদের খোঁজখবর রাখি। তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোমস্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন জানান, শহীদের বিষয়ে আমি অবগত নই। কালই খোঁজ নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।

সোহান মাহমুদ/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।