কুমিল্লার স্কুলে স্কুলে গোছগাছ, সরব হচ্ছে আঙিনা

জাহিদ পাটোয়ারী
জাহিদ পাটোয়ারী জাহিদ পাটোয়ারী , কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

সারাদেশের মতো কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের গোছগাছ। পরগাছা আর ধুলোবালি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে স্কুলগুলোকে করা হচ্ছে পাঠদানের উপযোগী। অন্যদিকে আঙিনায় আনাগোনা শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদেরও। ফলে দীর্ঘ দেড় বছরের নীরবতা যেন ভাঙতে শুরু করেছে স্কুল এলাকায়।

মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকা দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলবে। আগের ঘোষণা অনুসারেই নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তার এ ঘোষণার পর থেকেই স্কুল-কলেজগুলো গোছানোর কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা। কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা, ক্লাসরুম, টেবিল-চেয়ার ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। আগাছা কেটে শিশুদের খেলাধুলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে মাঠ। আবার সরকারের নির্দেশনা অনুসারে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানাতে নেয়া হচ্ছে সুষ্ঠু পদক্ষেপও।

jagonews24

শিক্ষা বিভাগ সূত্র জানায়, কুমিল্লা জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে দুই হাজার ১০৬টি, কিন্ডার গার্টেন রয়েছে দুই হাজার ১৭৬টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬০৫টি এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৬২টি।

কুমিল্লা জিলা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল হাফিজ জাগো নিউজকে বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে শ্রেণিকক্ষগুলি স্যানিটাইজ করা হয়েছে। অনলাইনে শিক্ষার্থীদের করোনা স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ যাবতীয় নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি সব প্রস্তুতি দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

jagonews24

নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের প্রধান শিক্ষক হানিফ মজুমদার বলেন, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সব বিষয়ে প্রস্তুতি আমরা ইতোমধ্যে সমাপ্ত করেছি। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের একটি কক্ষকে আইসোলেশন রুম হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা করছি ১২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থবিধি মেনে শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবো।

কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ মাহমুদ আবির জানায়, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ কম ছিল। ভিডিও গেমস ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় সময়ে কেটেছে। এখন স্কুল খোলার খবরে তারা আনন্দিত। তাদের আশা, আগের চেয়ে এবার সময় ভালো কাটবে। পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পারবে তারা।

jagonews24

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মান্নান বলেন, জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে দুই হাজার ১০৬টি ও কিন্ডার গার্টেন আছে দুই হাজার ১৭৬টি। সব প্রতিষ্ঠানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক থাকবে, এরই মধ্যে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আমাদের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের সঙ্গে সভা এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধানদের সঙ্গে জুম মিটিং করা হয়েছে জানিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মজিদ জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা আসবে তা পরিপালন করা হবে।

জাহিদ পাটোয়ারী/এইচএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]