ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, শেয়ার মালিককে হত্যা
বগুড়া সদরে ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যবসায়িক অংশীদার সেলিম হোসেনকে (২৭) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর গ্রেফতার ক্লিনিকের সেবক ও অংশীদার সাদ্দাম হোসেন ইনজেকশন পুশ করে তাকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেফতার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বড় ভাই আব্দুস সামাদ।
সেলিম হোসেন গাবতলী উপজেলার আটবাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
নিহত সেলিমের বড় ভাই আব্দুস সামাদ জানান, সাতজনের অংশীদারিত্বে ৯ মাস আগে পীরগাছা বাজারে সালমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়। সাতজনের মধ্যে তাদের পরিবারের চারজনের অর্ধেক এবং গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের জিন্নাহ মিয়ার ছেলে সাদ্দামের একারই অর্ধেক শেয়ার ছিল। সাদ্দাম নিজেই ক্লিনিকে সেবক (নার্স) হিসেবে এবং সেলিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেলিম ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় অসুস্থ বোধ করলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ সেলিমকে স্যালাইন দিয়ে হাসপাতালের বেডে রাখা হয়। ভর্তির কিছু পর সেখানে সেবক সাদ্দাম হোসেন গিয়ে সুযোগ বুঝে ইনজেকশন বের করে সেলিমের হাতে লাগানো ক্যানুলা দিয়ে পুশ করে দেন। এ সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন গ্যাসের ইনজেকশন পুশ করেছেন। এ ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে সেলিম হোসেন মারা গেলে সাদ্দাম হোসেনকে সেখানেই আটক করা হয় এবং তার পকেট থেকে ব্যবহৃত চেতনানাশক ইনজেকশনের অ্যাম্পুল জব্দ করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আব্দুস সামাদ আরও জানান, গত ৭ জুলাই তার আরেক ছোট ভাই শাহীন আলম (২৪) অসুস্থ বোধ করলে পীরগাছা বাজারে তাদের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্যালাইনের মাধ্যমে ইনজেকশন পুশ করার পর রাতে শাহীন মারা যান। পরে বলা হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। শাহীনের মৃত্যুর ঘটনায় সাদ্দামকে কেউ সন্দেহ করেনি। কিন্তু এবার সাদ্দামকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেলিমকে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছেন সাদ্দাম হোসেন। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। সেলিম হোসেন ও এর আগে তার ভাইকে হত্যা এই দুটি ঘটনা নিয়েই তদন্ত করা হবে।
এফআরএম/এমএস