ফরিদপুরে চলছে জাল দিয়ে মাছ ধরা উৎসব
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দলবেঁধে খেপলা জাল দিয়ে চলছে মাছ ধরার মহোৎসব। আধুনিক যুগে গ্রাম বাংলার পুরনো ঐতিহ্য দলবেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য দীর্ঘদিন পরে যেন হারানো স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বানা ইউনিয়নের পণ্ডিতের বানা ঐতিহ্যবাহী নিশিনাথ তলা নামক স্থানে খালে মাছ ধরার এমন দৃশ্য দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার(১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর অবধি চলে মাছ ধরা। এলাকার প্রায় ২০-২৫ শৌখিন মাছ শিকারী খেপলা জাল নিয়ে মাছ ধরায় মেতে উঠেন। পুঁটি, টেংরা, টাকি, বাইম, চিংড়ি, শোল, বেলেসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ খেপলা জালে উঠতে দেখা যায়।

দলবেঁধে মাছ ধরায় অংশ নেওয়া স্থানীয় ইসাহাক শেখ, হোসাইন, জাকির হোসেন, প্রদিপ, আশুতোষসহ বেশ কয়েকজন জানান, একসময় খেপলা জাল দিয়ে মাছ ধরা ছিল অহরহ বিষয়। এখন আর তা দেখা যায় না। খালের পানি আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। তাই এলাকার কয়েকজন মিলে উদ্যোগ নেয় এভাবে মাছ ধরার। খবর পেয়ে অনেকেই উৎসবে যোগ দেয়। তবে আগের মতো জালে আর দেশি মাছ পাওয়া যায় না।
স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলিয়ার রহমান জানান, এলাকাবাসীর উদ্যোগে শুরু হয়েছে খেপলা জাল দিয়ে মাছ শিকার। ২০-২৫ জনের সমন্বয়ে একাধিক দল খালের বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরছেন। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে, হয়তো আরও দুই একদিন এভাবে মাছ ধরার চলবে।

আলফাডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনায়েত হোসেন জানান, এক সময় এসব এলাকায় সবাই মিলে মাছ ধরা হতো। এখন তা বিলুপ্তির পথে।
বানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এমন দৃশ্য এখন আর সচরাচর দেখা যায় না। সকালে প্রতিদিনের মতো প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে দীর্ঘদিন পরে এমন দৃশ্য দেখতে পেলাম। খুব ভালো লেগেছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, এ দৃশ্য যেন বিলুপ্তির পথে। সাধুবাদ জানাই এলাকাবাসীকে। তারা পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে দীর্ঘদিন পরে এমন আয়োজন করেছে। বর্তমান সমাজের যে অবস্থা এতে অন্তত আর যাই হোক গ্রামের একে অপরের সঙ্গে আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ফিরে আসে।
এন কে বি নয়ন/এএইচ/জেআইএম