পুলিশ পরিদর্শক পরিচয়ে চাঁদা দাবি, টাকা খোয়ালেন ৪ প্রধান শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পরিচয়ে নাটোরের সিংড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এতে ১৫ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা খুইয়েছেন চার শিক্ষক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিংড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ জন শিক্ষককে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় নিজেকে সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা পরিচয় দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, শিক্ষকদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মাদক মামলায় আসামি করার হুমকি দিয়ে ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে। এতে ভীত হয়ে চার জন প্রধান শিক্ষক প্রতারকের বিকাশ নম্বরে ১৫ হাজার করে টাকা দেন। পরে তারা জানতে পারে এটা প্রতারক চক্রের কাজ।

প্রতারক চক্রকে ১৫ হাজার টাকা করে দেন চৌগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃঞ্চপদ কর্মকার, বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খসরুজ্জামান, বিলচলন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম ও জয়নগর তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খসরুজ্জামান বলেন, মোবাইল ফোনে আমাকে কল দিয়ে পুলিশ পরিদর্শক পরিচয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং চাঁদা দাবি করে। আমি ভীত হয়ে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি।

উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বামিহাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর কাদির বলেন, আমাদেরকে প্রতারক চক্র মোবাইল ফোনে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করে। চারজন শিক্ষক ৬০ হাজার টাকা দিয়েছে। আমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর-এ-আলম সিদ্দিকী বলেন, সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শকের (তদন্ত) নাম রফিকুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা নয়। এটা প্রতারক চক্রের কাজ। মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেজাউল করিম রেজা/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]